এসিল্যান্ড নেই, বালিয়াকান্দিতে নামজারি আবেদনের স্তূপ

ছবি: আগামীর সময়
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) পদ শূন্য থাকায় নামজারি আবেদনের জট ক্রমেই বাড়ছে। পুরোনো আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ার মধ্যে প্রতিদিন নতুন আবেদন জমা পড়ায় দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার তালিকা। এতে জমির মালিকদের ভোগান্তি বাড়ছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক শিপন গত ১১ আগস্ট বদলিজনিত কারণে পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে পদটিতে স্থায়ীভাবে কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পাননি। তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সময় উপজেলায় নামজারি আবেদনের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছিল বলে জানা গেছে।
এরপর প্রতিদিন নতুন করে নামজারি আবেদন জমা পড়লেও সেগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় আবেদন জমে যাচ্ছে। ফলে পুরোনো আবেদনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন আবেদন।
উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সর্বশেষ ৩০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৬ শতাধিক আবেদন জমা আছে। এর মধ্যে ৩৪০টি নতুন নামজারি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩৭ শতাংশ আবেদন ২৮ দিনের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গত ৩০ দিনের তথ্য অনুযায়ী, নারুয়া ইউনিয়নে ২৮ দিনের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা আবেদনের হার ৭০ শতাংশ। জঙ্গল ইউনিয়নে এ হার ৫৪ শতাংশ, ইসলামপুরে ৪৭ শতাংশ।
ইলিশকোল এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু বলেন, ‘মাস দেড়েক আগে নামজারির আবেদন করেছিলাম। শুনানির জন্য মুঠোফোনে বার্তা এসেছিল। অফিসে গিয়ে শুনি, এসিল্যান্ড বদলি হয়েছেন। এখনো আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি।’
সদর এলাকার মোয়াজ্জেম বলেন, কয়েকবার অফিসে গিয়েছি। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে না। কবে এসিল্যান্ড আসবেন, সেটিও জানি না। আমার জরুরি ভিত্তিতে নামজারি প্রয়োজন।
সদ্য পদোন্নতি পাওয়া বালিয়াকান্দির ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কাজ শেষে নামজারির বিষয়গুলো দেখা কষ্টকর। এর মধ্যে যতদিন এসিল্যান্ডের পদ শূন্য ছিল আমি যাচাই-বাছাই শেষে নিস্পত্তি/বাতিল করেছি।
এ এস এম সালেহ আহমেদ আগামীর সময়কে বলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের একটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের পদায়ন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নাগরিকেরা স্বাভাবিকভাবে ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।






