সোনাগাজী
নদীভাঙন রক্ষায় বেড়িবাঁধের বালু নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা

ছবি: আগামীর সময়
ফেনীর সোনাগাজীতে নদীভাঙনের হাত থেকে বিস্তৃর্ণ জনপদ রক্ষায় সরকারি বরাদ্দে ফেলা বেড়িবাঁধের বালু চুরি করে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের চর লামছি গ্রামে বালু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বেড়িবাঁধ রক্ষায় বারবার উপজেলা প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও বালু দস্যুদের তৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নদীভাঙন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখ দিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর লামছি ও চর কৃষ্ণজয় এলাকায় সড়কের শেষ প্রান্তে বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে ২০২৩ সালে ফেনী নদীর ভাঙন থেকে আউটার বেড়িবাঁধ ও জনপদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকি থেকে বেড়িবাঁধ ও দুটি গ্রাম রক্ষা পায়।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্র-ছায়ায় বালু দস্যুরা বড় স্ক্যাভেটর (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে রাতের আঁধারে সুরক্ষা বালুগুলো কেটে ড্রাম ট্রাকে করে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ও জনপদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পর প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। ফলে বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা ও নতুন করে নদী ভাঙন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
উপজেলার চর লামছি গ্রামের আবুল কাশেম বললেন, সরকার আউটার বেড়িবাঁধ ও মানুষের ঘরবাড়ি রক্ষায় নদীর তীরে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে ছিল। সেই বালু দস্যুরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। আমরা বেড়িবাঁধ ও জনপদ নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি।
চর কৃষ্ণজয় গ্রামের স্কুল শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের ভাষ্য, নদীরপাড় থেকে বালু নিয়ে যাওয়ায় ভয়ঙ্কর অবস্থা। বেড়িবাঁধ রক্ষায় সরকারি অর্থায়নে ফেলানো বালু, এখন দস্যুরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বালু নিয়ে যাওয়ার কারণে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই গ্রামের হাজারো বাড়িঘর, হাট বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরসহ বিস্তৃর্ণ জনপদ নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বললেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বালু দস্যুদের দমন ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
জানতে চাইলে সদ্য যোগদানকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারজান হোসাইন বললেন, আমি নতুন যোগদান করায় বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। কেউ এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ নেই। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত বেড়িবাঁধ রক্ষায় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





