ভোলায় ২৫৯ বছরের কবিগানের আসর

ঢাক-ঢোলের তাল, কবিয়ালদের যুক্তি-তর্ক আর ছন্দের লড়াই। কখনো তত্ত্বকথা, কখনো কাব্যের কথামালা। মুগ্ধ হয়ে তা উপভোগ করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কারও ধর্মীয় পরিচয় হিন্দু, কারও মুসলিম। কিন্তু গানের আসরে নেই কোনো ভেদাভেদ। ২৫৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী কবিগানের আসর ঘিরে এভাবেই মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে ভোলার দক্ষিণ বাপ্তা।
সদর উপজেলার দক্ষিণ বাপ্তা এলাকার রতন মহাজনের বাড়ির উঠানে গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় শেষ হবে আসর। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কবি ও সরকারদের অংশগ্রহণে জমে উঠেছে গানের লড়াই। তাদের গান, ছন্দ ও যুক্তি-তর্কে মেতে উঠেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শ্রোতারাও।
দীর্ঘদিনের এ আয়োজন স্থানীয় মানুষের কাছে শুধু বিনোদনের উপলক্ষ নয়, এটি পরস্পরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও আনন্দ ভাগাভাগিরও সুযোগ। কবিগান শুনতে আসা নন্দলাল, মনি রানী দে ও অন্তরা সাহার ভাষায়, ২৫৯ বছরের এ আয়োজন তাদের কাছে একটি মিলনমেলা। প্রতি বছর তারা আসরে আসেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ঐতিহ্য অব্যাহত থাকবে।
এই মিলনমেলায় ধর্মীয় পরিচয় যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, তা বোঝা যায় শ্রোতা আলী সর্দারের কথায়। তিনি প্রতি বছরই কবিগান শুনতে আসেন। তার ভাষায়, ধর্মীয় পরিচয় যার যার; কিন্তু আসরে সবাই একসঙ্গে বসে গান উপভোগ করেন। শিল্পীদের গান ও কথার লড়াই শুনে আনন্দ নিয়েই বাড়ি ফেরেন।
শুধু গান শোনাই নয়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা শ্রোতাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থাও রেখেছেন আয়োজকরা। তিন দিনই দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে দর্শনার্থীদের। খাবার শেষে আবারও তারা ফিরে আসছেন গানের আসরে। সব মিলিয়ে আয়োজনটি হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষের এক মিলনস্থল।
পূর্বপুরুষদের শুরু করা এ ঐতিহ্য ধরে রাখতেই প্রতি বছর কবিগানের আয়োজন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আয়োজক কমিটির সদস্য কপিল দে ও নিহার চন্দ্র দে জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে কবিগানের চর্চা কমে আসছে। তাদের মতে, লোকজ এই সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রসারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তা না হলে দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।



