অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে, রোগীরা ছুটছেন বেসরকারি গাড়িতে

সংগৃহীত ছবি
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় দেড় বছর ধরে অচল। চালক সংকটের কারণে গাড়িটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে জরুরি রোগী স্থানান্তরে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা না পেয়ে রোগীদের ভরসা করতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহনের ওপর। এ কারণে বাড়তি খরচ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক প্রায় দেড় বছর আগে অবসরে যান। এরপর থেকে নতুন কোনো চালককে করা হয়নি পদায়ন। যারফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গ্যারেজে অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে রয়েছে অচল অবস্থায়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকায় গাড়িটির যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গুরুতর রোগীদের নিয়মিতভাবে সিলেটের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা হয় স্থানান্তর। তবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালু না থাকায় রোগীর স্বজনদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি পরিবহন ভাড়া করতে হচ্ছে। সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি যানবাহন সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার পাঠাকইন গ্রামের শাহিন মিয়া বললেন, সপ্তাহখানেক আগে রাতে রোগী নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে যাই। রোগীর সমস্যা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সিলেট শহরে যাওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় বেশি টাকায় প্রাইভেট একটি মাইক্রো নিয়ে আমাকে যেতে হয়। এতে টাকা বেশি লাগলেও মাইক্রো ম্যানেজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
মরমি কবি হাসন রাজার জন্মভূমি বিশ্বনাথের রামপাশা। তার দৌহিত্র দেওয়ান তৈমুর রাজা চৌধুরী মানবসেবামূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৯৭৮ সালে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার জন্য উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাদিপুর এলাকায় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যার হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। ২০১৮ সালে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০৯ সালে পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটিই বর্তমানে চালক সংকটে অচল হয়ে রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হোসেন বলছিলেন, আমি যোগদানের পর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি করছি, জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স চালক দেওয়ার জন্য।
স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর বলেছেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগ হতে পারে।




