সৈয়দপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৫

ছবি: আগামীর সময়
নীলফামারীর সৈয়দপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে শহরের মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নবীনগর এবং শাখাওয়াত তালাও এলাকার দুটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সেদিন দুপুরে শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নবীনগর এলাকার সাহিদের ছেলে রাজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় ওই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাদেরকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় তারা এলাকার বেশ কয়েকটি সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং বাড়ির ভেতরে থাকা নারী ও পুরুষদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাজার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নবীনগর এলাকার আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী গুলশান আরা বলেন, শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলেরা অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তারা আমার বাড়িতেও চড়াও হয় এবং আমাকে মারধর করেছে। অথচ দুই পক্ষের গ্যাঞ্জামের সঙ্গে আমার পরিবারের কেউ জড়িত নয়। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। এমনকি সাহিদের ছেলে রাজাকে যে কোপানো হয়েছে সে এসবের মধ্যে ছিল না। সে খুবই সাধারণ ও ভদ্র ছেলে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকেই মেরেছে।
মিস্ত্রিপাড়া মোড় এলাকার সাহিদের ছেলে ইমরান বলেন, একটা ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গ্যাঞ্জাম হয়। সে সময় তানভির নামে একটি শিশুকে শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলেরা আটক করে মারধর করছিল। আমি প্রতিবাদ করে তানভিরকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। এ কারণে তারা আমাকে প্রতিপক্ষ মনে করে আমার বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে।
নবীনগর এলাকার গৃহিণী নিপু বলেন, অস্ত্র নিয়ে ১৫-২০ জন আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি মহিলাদের গায়েও হাত তুলেছে। বাধা দেওয়ায় প্রায় ৫ জনকে এলোপাতারি মারধর করে জখম করেছে। এ কারণে আমরা আতঙ্কিত।
সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তারিক আজিজ বলেন, কী কারণে এই ঘটনা তা জানি না। বিষয়টা মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সার্বিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







