মেহেদির রং মোছার আগেই প্রাণ হারাল নববধূ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হাতে মেহেদির রং রয়ে গেছে তখনো। নতুন সংসার নিয়ে স্বপ্ন বুনছিল লিমা আক্তার। কিন্তু সে-সব সত্যি হওয়ার আগেই প্রাণ হারাল সে।
বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে লিমা আক্তার নামে এক নববধূর নিথর দেহ। মঙ্গলবার রাতে অসুস্থতার খবর দিয়ে ফোন করা হয়েছিল বাবার বাড়িতে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী একরামুল ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লিমা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাবিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। গত ১৫ অক্টোবর একরামুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন লিমা। মঙ্গলবার বিকেলে ফিরে আসেন শ্বশুরবাড়িতে। এরপর বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়।
লিমার মা রোকেয়া বেগমের অভিযোগ, জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে তার মেয়েকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিমার বাবা সাইদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে লিমার ভগ্নিপতিকে ফোন করে তার অসুস্থতার কথা জানানো হয়। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অভিযোগ স্বীকার করেননি স্বামী একরামুল। তার দাবি, রাতে তারা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। পরে বাইরে গিয়ে পাশের একটি সেমিপাকা ঘরে স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। এরপর তিনি নিজেই তাকে নিচে নামিয়ে আনেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই লিমার মৃত্যু হয়েছিল।
নালিতাবাড়ী থানার ওসি আশরাফুজ্জামান বলেন, লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।




