বাগেরহাটে সাংবাদিককে হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ

নিজ চেম্বারে রোগীর সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেন চিকিৎসক, এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় হেনস্তা করেন সাংবাদিককে—ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া
বাগেরহাটে ডায়াগনস্টিক টেস্টের রিপোর্টের তারতম্য নিয়ে প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিককে হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
আজ বুধবার বিকালে বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায় ওই চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।
পরে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দৈনিক আগামীর সময়ের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি শেখ সোহেল (৩০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আলেয়া বেগম কানের চিকিৎসা নিতে ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের চেম্বারে যান। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আসতে বলেন।
পরে হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে গেলে চিকিৎসক সেটি দেখতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন ওই রোগী। এরপর চিকিৎসক রিপোর্টটি টেবিল থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সিটি ল্যাব থেকে পরীক্ষা করানোর কথা বলেন।
আলেয়া বেগম বলেছেন, ‘রিপোর্ট দেখাতে গেলে চিকিৎসক আমার রিপোর্ট দেখবেন না বলে জানান। এরপর রিপোর্টটি টেবিল থেকে ছুড়ে ফেলে দেন। এ সময় চিকিৎসক আমাকে বলেন, আমি সিটি ল্যাব থেকে পরীক্ষা করানোর কথা বলেছি আপনাকে, আপনি কেন করাননি—আপনার রিপোর্ট দেখব না।’
সাংবাদিক শেখ সোহেল বলেন, রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট গ্রহণ না করার কারণ এবং পরীক্ষার রিপোর্টের পার্থক্য সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চাই। এ সময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
তিনি আরও বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে তথ্য জানতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে, মোড়েলগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক ব্যক্তি জানান, তিনিও কানে কম শোনার সমস্যার কারণে ওই চেম্বারে গিয়েছিলেন। সাংবাদিক সেখানে গিয়ে রিপোর্টের বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তিনি চেম্বার থেকে চলে যান।
চিকিৎসকের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি যার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছি, তিনি নিজেই যদি এমন আচরণ করেন, তাহলে আমাদের কীভাবে সেবা দেবেন?’
এ বিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বাগেরহাট সদর থানার ওসি মো. সামসুল আরেফিন বলেছেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শেখ সোহেল নামে একজন সাংবাদিক বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



