গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসা
মেয়াদ শেষেও প্রভাব খাটিয়ে ‘চুক্তিভিত্তিক’ হয়ে থাকতে চান অধ্যক্ষ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী অবসরে গেলেও প্রভাব খাটিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে অধ্যক্ষ থাকতে চান। নানা অনিয়ম, অর্থ আদায়, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা।
আজ বুধবার দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে এক প্রতিবাদসভায় অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে ধরেন শিক্ষকরা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদ, প্রভাষক হাসিবুর হাসান হৃদয়, নাহিদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল কাইয়ুম, নাজমিন আক্তার, এবতেদায়ী প্রদান মোস্তাফিজুর রহমান।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদকে অজুহাত ছাড়াই শোকাজ করে তার থেকে ১ লাখ টাকা আদায়, দুটি উচ্চতার স্কেল করে দেওয়া বাবদ ১ লাখ টাকা, ২০২৫ এনটিআরসি নিয়োগপ্রাপ্ত ৫ শিক্ষক যোগদান করায় তাদের নিকট থেকে ৯০ হাজার টাকা আদায়, এবতেদায়ী শিক্ষক নাজমিন আক্তারের নিকট থেকে ৯০ হাজার টাকা আদায় করেন তিনি।
একইভাবে ২০২৬ সালে আইসিটি প্রভাষক নাহিদ হোসেন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করায় তার নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকা, এনটিআরসি যোগদানকৃত কৃষি শিক্ষক মমতাজ বেগমের নিকট থেকে ৮৫ হাজার টাকা, আরবি প্রভাষক মুজিবুর রহমানের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা, দাখিল কারি শিক্ষক আব্দুল গফফার মৃধা উচ্চতার স্কেল বাবদ ৫০ হাজার টাকা আদায়সহ শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন অধ্যক্ষ আব্দুল বারী।
শিক্ষকরা আরও উল্লেখ করেন, গত ২৯ জুন অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি পুনরায় চুক্তিভিত্তিক অধ্যক্ষ হিসেবে থাকার পাঁয়তারা করছেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন, ২৯ জুন তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে বিধি অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি পুনরায় তাকে চুক্তিভিত্তিক ২ বছরের জন্য অধ্যক্ষ পদে যোগদানের সুপারিশ করে মাদ্রাসা বোর্ডে আবেদন পাঠিয়েছে। আবেদন গৃহীত হলে তিনি বিনাবেতনে প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে থাকবেন।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ জানালেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রধানের মেয়াদ শেষ হলে তিনি ওই পদে থাকতে পারেন না। জোর করে পদে থাকার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি ও বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাস বললেন, অধ্যক্ষের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি পদে থাকার আর এখতিয়ার রাখেন না।




