মৌলভীবাজার
পানি নামছে, ভেসে উঠছে ক্ষত

মৌলভীবাজারে নেমে যাচ্ছে বন্যার পানি— সংগৃহীত
মৌলভীবাজারে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। তলিয়ে গেছে আমন ও আউশের বীজতলা, নষ্ট হয়েছে কৃষিজমি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ সড়ক। ডুবে গেছে নলকূপ ও পুকুর। অনেক এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটে দুর্ভোগে রয়েছেন বন্যাকবলিত মানুষ।
আজ শনিবার রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্থানে পানি কমতে শুরু করলেও অসংখ্য বাড়িঘর, আঙিনা ও সড়কে এখনো পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনো ফেরেনি।
মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজনগর ও সদর উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো প্রায় দুই হাজার মানুষ অবস্থান করছেন।
রাজনগরের শরীফ আহমেদ তুলে ধরেন, দুইশ ফুটের বেশি বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন হবে।
সদর উপজেলার হেতি বেগম বললেন, ‘তিন দিন ধরে পানিবন্দি ছিলাম। অনেক ঘরে এখনো হাঁটুসমান পানি। সরকারি বা বেসরকারিভাবে সবাই এখনো ত্রাণ পায়নি। যারা ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তারা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
বন্যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। অনেক কৃষকের আমনের বীজতলা, আউশের আবাদ ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। নলকূপ ও পুকুর ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে এক হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯০ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ মন্তব্য করেন, জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি শুক্রবার রাত থেকেই ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। উজানে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং বন্যার পানি নেমে যাবে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।





