চকরিয়া-মাতামুহুরী
বন্যার পানি নামছে ধীরে, মানুষের ভোগান্তি

কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে বৃষ্টি থামায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি নামছে ধীরগতিতে। দুই উপজেলার শতাধিক গ্রাম থেকে পানি নামছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এখনো বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চিরিংগা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৮ মিটার।
আজ শনিবার বেলা ৩টায় সেখানে পানির উচ্চতা মাপা হয় ৫ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। শুক্রবার রাতে নদীতে পানির উচ্চতা মাপা হয়েছিল ৬ দশমিক ২১ মিটার। এখন নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, পেকুয়ার সাতটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা এবং মাতামুহুরী সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি। এতে স্থানীয় লোকজন চরম দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদি পশু নিয়ে মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, লক্ষ্যারচর মণ্ডলপাড়া, ছিকলঘাট, হাজীপাড়া, কৈয়ারবিলের খোজাখালী, ছোয়ালিয়াপাড়া, খিলছাদক, বরইতলীর রসুলাবাদ, বিবিরখিল, শান্তিবাজার, কাকারার বারআউলিয়ানগর, এসএমচর, পুলেরছড়ারসহ উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে আছে। বসতবাড়িতে এখনো পানিমগ্ন। পানিবন্দি মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। তবে অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগে খিচুড়ি, শুকনো খাবার, খাবার স্যালাইন বিতরণ করছেন। তবে এসব অপ্রতুল।
লক্ষ্যারচর হাজীপাড়ার আব্দুল হালিম বলেছেন, ‘রাত থেকে বৃষ্টি বন্ধ রয়েছে। এতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি নামছে খুবই ধীরগতিতে। এখনো মানুুষের ঘরবাড়িতে পানি ও পলিমাটি জমে রয়েছে। এ কারণে রাস্তাঘাটে হাঁটাচলা করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
কাকারা বারআউলিয়ানগর গ্রামে আমজাদ হোসেন বলছিলেন, ‘প্রায় ৫দিন ধরে আমরা কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি আছি। এখন বাড়িতে খাবার সামগ্রী শেষ হয়ে গেছে। তাই বাজারে যাচ্ছি, রাস্তায় পানি ওঠায়, নৌকা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানালেন, ‘বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। উজানে বৃষ্টি হওয়ায় এখনো বিপদ কাটছে না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতদের মাঝে খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।’





