আকবরের জীবনে দীর্ঘশ্বাস
- ২ হাজার টাকায় চলে সংসার

যশোরের নওয়াপাড়া বাজারে প্রতিদিন মানুষের ভিড়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন আকবর আলী। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই মানুষটির এক হাতে ধর্মীয় দায়িত্ব, অন্য হাতে সংসারের টানাপড়েন। চেঙ্গুটিয়া কাঁচাবাজার মসজিদে ইমামতি করে মাসে পান মাত্র ২ হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই মসজিদের দায়িত্ব শেষে প্রয়োজনের তাগিদে তাকে মানুষের কাছে সহায়তা চাইতে হয়।
অভয়নগর উপজেলার চাপাতলা এলাকার শালবাগানের বাসিন্দা আকবর আলী। তার বাবা আজগর আলী মোল্লা। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। এখন স্ত্রীকে নিয়ে তার ছোট সংসার। তবে সংসার ছোট হলেও খাবার, ওষুধ, পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ কমেনি। মাসে ২ হাজার টাকা সম্মানী দিয়ে এসব ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না। এ কারণেই নওয়াপাড়া বাজারে মানুষের কাছে সহায়তা চান আকবর আলী। কাজটি তার জন্য স্বস্তির নয়। নিজের প্রয়োজনের কথা বলে কারও কাছে হাত পাততে তারও কষ্ট হয়; কিন্তু অভাবের কাছে সেই সংকোচও হার মানে।
দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও নিজের দায়িত্ব পালনে আকবর আলীর আগ্রহে ঘাটতি নেই। প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ান, মুসল্লিদের ধর্মীয় কাজে নেতৃত্ব দেন। অন্যদের নামাজে দাঁড় করানোই তার দায়িত্ব; অথচ নিজের সংসারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে তাকে নির্ভর করতে হয় অন্যের সহায়তার ওপর।
চেঙ্গুটিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলমের ভাষায়, আকবর আলী দীর্ঘদিন ধরে ইমামতি করছেন। তার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। মাত্র ২ হাজার টাকা সম্মানী দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। প্রয়োজনের কারণেই তাকে মানুষের সহায়তা নিতে হয়।
কলেজ শিক্ষক আবুল হোসেনের মতে, আকবর আলীকে করুণার চোখে দেখার চেয়ে তার জন্য স্থায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করা এই মানুষটি যাতে সংসারের খরচ জোগাতে মানুষের কাছে যেতে বাধ্য না হন, সেজন্য সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসতে পারে।



