পটুয়াখালী
জ্বালানি সংকটে পেশা বদল করছেন বাইকাররা

ছবিঃ আগামীর সময়
পটুয়াখালীতে জ্বালানি তেলের সংকটে পড়েছেন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা। আয় কমে যাওয়ায় বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই পেশা বদল করতে।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীও কমে গেছে। এতে আগের মতো আয় করতে পারছেন না তারা। আগে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করতেন, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
গত ২ ও ৩ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা গেছে, পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় এই সংকটের চিত্র। চারটি ফিলিং স্টেশন ছাড়াও দুমকীর পাগলার মোড়, শহরের প্রবেশদ্বার চৌরাস্তা, গলাচিপার শাখারিয়া ও হরিদেবপুর এবং পানপট্টি খেয়াঘাট এলাকায় অনেক স্ট্যান্ড এখন প্রায় ফাঁকা।
জেলা ট্রাফিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে অন্তত ১০টি অস্থায়ী মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড রয়েছে। রয়েছে আরও শতাধিক স্ট্যান্ড জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। এসব স্থান থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করতেন। কিন্তু গত এক থেকে দেড় মাস ধরে তেল সংকটে আয় কমে গেছে চালকদের।
মোটরসাইকেল চালক আবু বকরের সঙ্গে কথা হয়। জানালেন, এক মাস আগেও পাগলার মোড়ে ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেল ছিল। এখন সেখানে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি রয়েছে। বাকিরা কেউ কৃষিকাজে গেছেন, কেউ হোটেলে কাজ নিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবহনে হেল্পারের কাজ করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বড়লোকদের মোটরসাইকেলে ট্যাংকি ভর্তি করে তেল দেওয়া হয়, কিন্তু আমরা দুই-তিন লিটার তেলও পাই না। দুইশ টাকার বেশি তেল দেয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়।
দুমকীর পাগলার মোড়ের চালক জসিম উদ্দিন বলেছেন, ‘ছোট তেলের দোকানগুলোতে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু দোকানদার বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। আবার পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যায় না। এতে আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা বদল করছেন।’
গলাচিপার শাখারিয়া এলাকার চালক হানিফ মোল্লা জানান, আগে সেখানে শতাধিক মোটরসাইকেল ছিল। এখন হাতে গোনা ১০ থেকে ২০টি রয়েছে।
হরিদেবপুর খেয়াঘাটের চালক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। আক্ষেপ করে জানালেন, আগে প্রতিটি খেয়া থেকে নামা যাত্রীদের সহজে মোটরসাইকেলে নেওয়া যেত। এখন মোটরসাইকেলের অভাবে অনেক যাত্রী পরিবহন করা যাচ্ছে না।
‘এলাকায় থাকা ছোট তেলের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দূরের পাম্প থেকে তেল আনতে হচ্ছে, এতে সময়ও নষ্ট হচ্ছে।’ - যোগ করেন তিনি।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, তারা আগের মতো তেল পেলেও চাহিদা মেটাতে পারছেন না। আমখোলা বাজারের দোকানদার আমজেদ মিয়া বলেছেন, ‘আগে আমার দোকানে প্রতিদিন ৪০ লিটার তেল বিক্রি হতো, এখন তেল না পাওয়ায় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
রুপালি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মালেক মিয়া জানান, এখন মোটরসাইকেলের ভিড় অনেক বেশি। কুয়াকাটা থেকে আসা-যাওয়া করা পর্যটকেরাও এখান থেকে তেল নিচ্ছেন। ফলে সরবরাহ থাকলেও চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক পটুয়াখালী জেলা সমিতির সভাপতি আবু সালেহ বলেছেন, জেলায় লক্ষাধিক বাইকারের মধ্যে গত এক মাসে অন্তত ২০ হাজার চালক পেশা বদল করেছেন। দ্রুত তেল সংকট সমাধান না হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।















