পাঁচ উপজেলায় সাব-রেজিস্টার নেই, তিন মাসেও দলিল হয়নি সুলেমানের

ছবি: আগামীর সময়
তিন মাস ধরে বারবার আসছেন সুলেমান সরকার। কখনো সাব-রেজিস্টার নেই, কখনো জমির দাতা ছুটিতে। দুজনকে একসঙ্গে পাওয়াই যেন ভাগ্যের বিষয়। অবশেষে একদিন দুজনকে একসঙ্গে পেলেন। কিন্তু এত ভিড় যে দলিল যাচাই করার ঠিকমতো সুযোগ নেই। তার আক্ষেপ, 'কষ্টে দুজনকে একসঙ্গে পেয়েছি। কিন্তু এত ভিড় যে দলিল ঠিকমতো যাচাই হচ্ছে না, তাড়াহুড়া হচ্ছে। সকল দলিল লেখক কার আগে কে করবে সে চেষ্টায় ভুলভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।'
সুলেমানের এই দুর্ভোগ একার নয়। লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার পাঁচটি সাব-রেজিস্টার পদই এখন শূন্য। জেলা রেজিস্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী— কোনো উপজেলায়ই স্থায়ী সাব-রেজিস্টার নেই। বাইরের জেলা থেকে আনা কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্বে সপ্তাহে মাত্র এক বা দুই দিন অফিস করছেন। বাকি দিন বন্ধ থাকছে জমি নিবন্ধনের এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলো।
সবচেয়ে বেশি সংকট পাটগ্রামে। ২০১৭ সালে সাব-রেজিস্টার রতন অধিকারী বদলি হওয়ার পর প্রায় নয় বছরে আর কোনো কর্মকর্তা পদায়ন হয়নি। বর্তমানে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের সাব-রেজিস্টার রাশেদুজ্জামান একাই তিনটি অফিসের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন— পাটগ্রাম, লালমনিরহাট সদর এবং নিজের কর্মস্থল রাজারহাট। এর বাইরে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের কামরুন নাহার আদিতমারীতে, নীলফামারীর ডোমারের সিরাজুল ইসলাম হাতীবান্ধায় এবং রংপুরের গঙ্গাচড়ার রিপন চন্দ্র মণ্ডল কালীগঞ্জের তুষভান্ডার কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
একমাত্র আদিতমারীতে সাব-রেজিস্টার শিউলী খাতুন পদায়নে থাকলেও তিনি এখন দুই মাসের প্রশিক্ষণে। চলতি বছর ৯ ফেব্রুয়ারি হাতীবান্ধার সাব-রেজিস্টার আরিফ ইশতিয়াক বিসিএস ক্যাডারে চলে যাওয়ার পর সেখানেও শূন্যতা তৈরি হয়। গত ২৮ এপ্রিল একই দিনে সদর উপজেলার আহসান হাবিব এবং কালীগঞ্জের রাশেদুজ্জামান বদলি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
দলিল লেখক বুলবুল আহমেদ তুলে ধরেন আসল সমস্যাটা। তার ভাষ্য, 'অন্য জেলার সাব-রেজিস্টাররা নিজেদের অফিসের কাজ সামলে এখানে আসেন। ফলে সপ্তাহের পাঁচ দিনের কাজ একদিনেই করতে হয়। এতে ভুলভ্রান্তির ঝুঁকি বাড়ছে। দলিল লেখক, নকলনবিশ, ক্রেতা-বিক্রেতা— সবাই ভোগান্তিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে কমে যাচ্ছে সরকারের রাজস্ব আদায়ও।'
আদিতমারী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক উদ্বেগ জানান, 'সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সরকারের রাজস্ব আদায়ের বড় মাধ্যম। অথচ জেলার পাঁচটি অফিসেই সাব-রেজিস্টার নেই। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়ন করা জরুরি।'
লালমনিরহাট জেলা রেজিস্টার সাখাওয়াত হোসেন জানান, জনভোগান্তি কমাতে কয়েক দফায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তার মতে, 'সাব-রেজিস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। দ্রুত পদায়ন হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।'






