সুন্দরগঞ্জ
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নাকি মশা প্রজননকেন্দ্র!

ছবি: আগামীর সময়
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, মশা প্রজননের এক ভয়ংকর অভয়ারণ্য। সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের ভেতরে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। সেখানে জমে থাকা নোংরা পানিতে বংশবিস্তার করছে মশা। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষ পড়ছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা চললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যেন কোনো মাথাব্যথাই নেই। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ভোগ। এমনকি হাসপাতালের নোংরা পানি আশপাশের বাড়িতে নেমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এ ছাড়া আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কারেও নেই উদ্যােগ।
আজ শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ফটক থেকে শুরু করে জরুরি বিভাগ সবখানেই পানি। রোগীর ওয়ার্ডের আশপাশ এবং হাসপাতালের ভেতরে ফুলের বাগানে পানি জমে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। হাসপাতালের ছাদের বিভিন্নস্থানেও বৃষ্টির পানি জমা। এমনকি জরুরি বিভাগ থেকে বহির্বিভাগে চলাচলের করিডোরের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়েছেন করিডোরে চিকিৎসা নেওয়া ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ও স্বজনরা।
এ ছাড়া কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে নোংরা পানি ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের বাড়িগুলোতে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা ড্রেনগুলোর পানিতে অসংখ্য মশা জন্ম নিচ্ছে। মশার আক্রমণে নাজেহাল খোদ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে কয়েক মিনিট বসে থাকা কষ্টকর। অনেক রোগী মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে রাত কাটাচ্ছেন। শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। হাসপাতালে এসে ডেঙ্গুর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে রোগী ও স্বজনরা। এটি হাসপাতাল নাকি মশা প্রজননকেন্দ্র? প্রশ্ন সেবাগ্রহীতাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা এলেই হাসপাতাল চত্বর জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়। কিন্তু সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ড্রেন সংস্কার কিংবা মশা নিধনের কার্যক্রমও নেই বললেই চলে। ফলে হাসপাতাল জুড়ে তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানালেন, হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। সামান্য বৃষ্টিতেই বাগানে পানি জমে যায়। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। যেখানে রোগীরা সুস্থ হওয়ার আশায় আসে, সেই হাসপাতাল নিজেই রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সাইদুর রহমান নামে এক রোগীর স্বজন জানালেন, রাতে রোগীর পাশে বসে থাকাই কষ্টকর। এত মশা যে কয়েল জ্বালিয়েও রক্ষা পাওয়া যায় না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাকের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিনের পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে হাসপাতালের পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।




