ফরিদপুরে অ্যাসিডের ধোঁয়ায় পুড়ছে ফসল, বিপাকে কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
দিনে সবুজ ধানক্ষেত, রাতে সেই জমির ওপর নেমে আসে ঝাঁজালো ধোঁয়া। ভোরে কৃষকরা দেখতে পান, ধান ও অন্যান্য ফসলের পাতা বিবর্ণ হয়ে গেছে। ফরিদপুরের কানাইপুর বিসিক শিল্পনগরীর একটি অ্যাসিড কারখানার ধোঁয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের দাবি, কয়েক কিলোমিটার এলাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ধোঁয়া ও ঝাঁজালো গন্ধে জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সম্প্রতি সরেজমিনে কানাইপুরের বিসিক শিল্পনগরী ও আশপাশের এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা যায়। তাদের ভাষ্য, রাতে কারখানায় উৎপাদন শুরু হলে বাতাসে ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। মহারাজপুর, মৃগী, কানাইপুর ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এর প্রভাব পড়ছে। অনেক জমির ধান, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের পাতা বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষক আব্দুল ওহাব শে খ বলেছেন, ধারদেনা করে ধান, মরিচ ও পটোল চাষ করেছিলেন। কিন্তু ধোঁয়ার প্রভাবে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। তার অভিযোগ, ওই ধোঁয়ার কারণে একটি চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখন ঝাপসা দেখেন।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমানের দাবি, বাতাসে ক্ষতিকর গ্যাসের প্রভাবে গাছের পাতা পুড়ে যাচ্ছে। এতে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির উর্বরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালাপোড়া ও ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন অনেকে।
কারখানার ধোঁয়ার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। সেখানে সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ তাবরিজ, স্থানীয় প্রতিনিধি লুৎফর রহমান, কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নান্নু মিয়াসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। তারা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সদস্য নান্নু মিয়া বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটিকে সরেজমিন পরিদর্শন করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, প্রায় দুই বছর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তখন তদন্ত করে কারখানার ধোঁয়ার কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এবারও অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



