সড়ক দুর্ঘটনা
বাদ্যের বাজনা থেমে গেল গাড়ির চাকায়

সংগৃহীত ছবি
ঢাক বাজিয়ে সংসার চালাতেন অনন্ত মালি (২৬)। স্ত্রী আদুরি বালা (২৩) ও ছয় বছরের মেয়ে মনিকাকে নিয়ে ছিল তার ছোট্ট সংসার। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেছে সব। বাস চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেয়ে মনিকা। এক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বুধবার মারা গেছেন মা আদুরি বালাও। পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য অনন্ত মালি এখন কাতরাচ্ছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায়।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের কাঁঠালবাড়ী বিদ্যা কানন স্কুলের সামনে ঘটে এ দুর্ঘটনা। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কোচ পেছন থেকে অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অনন্ত, তার স্ত্রী ও অটোরিকশাচালক মোজাম্মেল গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুড়িগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে অনন্ত ও আদুরি বালাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুড়িগ্রাম সদরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার একটি সরকারি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে থাকতেন অনন্ত। ঢাক বাজানো ছিল তার আয়ের প্রধান উৎস। কাজ না থাকলে দিনমজুর হিসেবেও কাজ করতেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর ওই কোয়ার্টারের আঙিনায় সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছিল শিশু মনিকার মরদেহ। পাশে স্বজনদের কান্না আর মরদেহ সৎকারের প্রস্তুতি। তখনো আদুরি বালার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়নি।
মনিকার দাদা দুলাল চন্দ্র রায় মালি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘আমার নাতনি গেল, বউমা গেল। তারা শ্বশুরবাড়ি থেকে কুড়িগ্রামে আসছিল। কিন্তু বাস তাদের পিষে মেরেছে। এখন আমার ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। তার চিকিৎসা কীভাবে করাব, কে খরচ দেবে?’
নিহতের চাচি আরতী রাণী বললেন, ‘আমার ভাতিজা খুব সাদাসিধে মানুষ ছিল। ঢাক বাজাত, আর কাজ না থাকলে দিনমজুরের কাজ করত। তার বউও মারা গেল, সেও অসুস্থ। এখন কীভাবে পরিবার চলবে, কে জানে। আমরা সরকারের কাছে বিচারের পাশাপাশি সাহায্যও চাই।’
অনন্তের ভাই আপেল মালি বললেন, ‘আমার ভাইয়ের পরিবারটা একেবারে শেষ হয়ে গেল। আমার ভাই খুব ভালো মানুষ। এখন কোথায় যাব, কী করব, ভেবে পাই না।’
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানালেন, সহায়তার বিষয়ে দুর্যোগ শাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।




