সংসার চালানোর পথ জানা নেই পা হারানো সোহেলের

ছোট্ট টিনের ঘরে শুয়ে আছেন সোহেল মিয়া (৪০)। দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে এখন নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। ঘরে স্ত্রী রান্না করছেন, ছোট ছেলেরা খেলছে। ১৭ বছর বয়সী বড় মেয়ে নিসা মাদ্রাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে যে সংসার একসময় নিজের উপার্জনে চলত, এখন সেই সংসারের খরচ জোগাতে অন্যের সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় তাকে।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের মাটিখোলা গ্রামের বাসিন্দা সোহেল। প্রায় চার মাস আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার জীবনে নেমে আসে এই দুর্দশা। দুর্ঘটনায় তার ভাই জুয়েল মিয়াও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিলেন।
চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সোহেলকে হারাতে হয়েছে একটি পা।
দুর্ঘটনার পর থেকে তার স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এখন স্ত্রী ও চার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
সোহেলের ভাষায়, মাছ ধরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি ও তার ভাই। সড়কে ওঠার পর ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের প্রধান লাইন থেকে একটি তার ছিঁড়ে তাদের ওপর পড়ে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাকে এক মাসের বেশি সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু পায়ের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত একটি পা হারিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।
‘স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে এলাকায় কাজ করে সুখেই দিন কাটাচ্ছিলাম। দুর্ঘটনার পর থেকে আর উপার্জন করতে পারি না। এখন নিজের সংসার চালাতেও অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়’— বলছিলেন সোহেল।
চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ধোবাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কয়েকজন কর্মী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাকে ২২ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছিলেন। এরপর আর কেউ তার খোঁজ নেননি।
তবে সোহেলের দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন গ্রামের মানুষ। তারা জানালেন, দুর্ঘটনার পর সোহেলের চিকিৎসার ব্যয় বহনে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন। এখনো তার পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের বড় অংশ তারা বহন করছেন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোভাবে চলছে চার সন্তান নিয়ে এই পরিবারের জীবন।
ধোবাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) হিমেল কুমারের ভাষ্য, অফিসের কয়েকজন সহকর্মী ব্যক্তিগত উদ্যোগে সোহেলকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তবে দপ্তরের পক্ষ থেকে এ ধরনের অনুদানের কোনো ব্যবস্থা নেই।



