ড্রোনে জেলে শনাক্ত হয়, জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান কেন নয়?
- সুন্দরবনে জলদস্যু আতঙ্ক
- যৌথ অভিযানের দাবি বনজীবীদের

সুন্দরবনে ড্রোন ব্যবহার করে বনে অবস্থানরত জেলেদের শনাক্ত ও আটক করতে পারলেও অস্ত্রধারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান চালাতে পারছে না বন বিভাগ। এমন অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তুলেছেন বনজীবীরা। তাদের অভিযোগ, জলদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজির আতঙ্কে বনে যেতে পারছেন না অনেক জেলে-বাওয়ালি। এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করতে বন বিভাগ, পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কর্মসূচির তৃতীয় দিন বিকেল তিনটায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বন বিভাগের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বনজীবীদের অভিযোগ, পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এখনো অস্ত্রধারী জলদস্যুদের তৎপরতা রয়েছে। অপহরণ, মুক্তিপণ ও অগ্রিম চাঁদা আদায়ের ভয়ে অনেক জেলে-বাওয়ালি জীবিকার সন্ধানে সুন্দরবনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এতে বননির্ভর অসংখ্য পরিবারের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনজ সম্পদের ওপর নির্ভর করে হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। সরকারকে নিয়মিত কর ও রাজস্ব দিয়ে অনুমতি নিয়ে বনে যাওয়ার পরও তাদের অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। অথচ বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর ও দৃশ্যমান অভিযান দেখা যাচ্ছে না।
আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাহলে সুন্দরবনে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতে হবে? জীবিকার প্রয়োজনে বনে যাওয়া মানুষ কেন প্রতিনিয়ত অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঝুঁকিতে থাকবেন?
বক্তাদের অভিযোগ, বন বিভাগের সদস্যরা ড্রোন ব্যবহার করে বনে অবস্থানরত জেলেদের শনাক্ত ও আটক করতে পারলেও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এমনকি বন বিভাগের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। জলদস্যুদের হাতে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোথা থেকে আসছে এবং কারা তাদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করছে, তা তদন্তের দাবি জানান তারা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, জলদস্যুদের তৎপরতায় শুধু জেলে-বাওয়ালিদের জীবন-জীবিকাই হুমকির মুখে পড়ছে না, সুন্দরবনের বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আন্দোলনের সমন্বয়ক ও গাবুরার তরুণ নেতা এবং সাতক্ষীরা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন লিটনসহ বক্তারা সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করতে অবিলম্বে বন বিভাগ, পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান। পাশাপাশি জেলে-বাওয়ালি অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি ও বন্যপ্রাণী হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ২৮ অক্টোবর মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ২৯ অক্টোবর বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ৩০ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। পরদিন ২ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা রয়েছে।
শুক্রবারের অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন মাস্টার আব্দুর রহিম, ইউপি সদস্য আবিয়ার রহমান, মাস্টার আবু তালেব, আশিকুর রহমান, সেরাজুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনীর ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, তরুণ নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও রুস্তম আলীসহ অন্যরা।




