আগামীর সময়

শ্রমিক ধর্মঘটে উত্তরের ৮ জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ

শ্রমিক ধর্মঘটে উত্তরের ৮ জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ

ছবিঃ আগামীর সময়

নীলফামারীতে জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগে তিন শ্রমিককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের আট জেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন।

রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে জ্বালানি তেল সরবরাহ। এ ঘটনায় পার্বতীপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা দণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।’

এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে পেট্রল পাম্প মালিক সমিতিও। ফলে রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্র দাবি করছে, গতকাল শনিবার পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে যমুনা অয়েল কোম্পানির তেল নিয়ে একটি ট্যাংকলরি নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে চালক ও সহকারীরা গাড়ি থামিয়ে মেরামতের কাজ করছিলেন।

এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে তেল চুরির অভিযোগ আনেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লরি ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রীকৃষ্ণ ও সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

এই দণ্ডকে ‘হয়রানিমূলক’ দাবি করে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলছেন, ‘আমাদের শ্রমিকরা চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল না, তারা কেবল গাড়ি মেরামত করছিল। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।’


    শেয়ার করুন: