খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ১৮ কিমি ঝুঁকিপূর্ণ, সাড়ে চার বছরে নিহত ২৬

ছবি: আগামীর সময়
ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে। কিন্তু যাত্রীদের স্বস্তির বদলে সঙ্গী হয়েছে ভয় আর উদ্বেগ। মহাসড়কটির ১৮ কিলোমিটার অংশ এতটাই বেহাল যে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, গর্ত এড়াতে চালকরা ভুল লেনে চলে যাচ্ছেন এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এই মহাসড়কের কৈয়া বাজার থেকে চুকনগর বাজার পর্যন্ত অংশে বিগত সাড়ে চার বছরে ২৫১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬১ জন আহত এবং ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে ১০ কিলোমিটারে কোথাও পিচ সরে ঢেউয়ের মতো হয়েছে, কোথাও দেবে গেছে, আবার কোথাও খানাখন্দে ভরা। বাকি ৮ কিলোমিটারে ইটের সোলিং বসানো হলেও তা ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জয়খালি এলাকা, গুটুদিয়া বাঁক থেকে ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী অংশ, বালিয়াখালি ও টিপনার বাঁক, কাঁঠালতলা থেকে চাকুন্দিয়া এবং চুকনগর বাজার এলাকায় অধিকাংশ জায়গায় ইট ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে। নিচখামার রেলক্রসিংয়ের দুপাশে অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
বছরভিত্তিক দুর্ঘটনার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। ২০২২ সালে ৬৪টি দুর্ঘটনায় ১০৭ জন আহত ও ৬ জন নিহত হন। ২০২৩ সালে ৬৬টি দুর্ঘটনায় ১০৮ জন আহত ও ৪ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন আহত ও ৮ জন নিহত হন। ২০২৫ সালে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৬২ জন আহত ও ৭ জন নিহত হন। আর চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ২০টি দুর্ঘটনায় ৩০ জন আহত ও ১ জন নিহত হয়েছেন।
মহাসড়কের আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক পুনর্নির্মাণের সময় নিম্নমানের বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছিল। এ কারণে বারবার মেরামত করা হলেও তা টেকসই হচ্ছে না, কেবল অর্থের অপচয় হচ্ছে।
যাত্রী সোহাগ হোসেন ও রাজিউল বারী সৈকত জানান, ঢাকা থেকে খুলনার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক হলেও খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে চুকনগর বাজার পর্যন্ত পথে ভোগান্তির পাশাপাশি ভয় ও আতঙ্কও কাজ করছে। চালক লিটু শেখসহ অন্তত পাঁচজন চালক উদ্বেগ জানান যে ইটের সোলিং ভেঙে তৈরি গর্ত, ঢেউখেলানো পথ এবং দলাবাঁধা বিটুমিনের কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। গর্ত এড়াতে গিয়ে ভুল লেনে যেতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা অংশের ৩৩ কিলোমিটার সড়ক ২০১৮-২০ সালে ১৮ থেকে ৩৬ ফুট প্রশস্ত করা হয়। কিন্তু নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই গর্ত ও উঁচু-নিচু সমস্যা দেখা দেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ তিন বছর মেরামত করার পর সওজ নিজস্ব অর্থায়নে কাজ চালিয়ে যায়। গত বছর বর্ষায় ১৬ কিলোমিটার সড়ক পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে হোগলাডাঙ্গা পাওয়ার গ্রিড ও রাজবাধ এলাকায় যথাক্রমে ৫৮ ও ৬৫ লাখ টাকায় কার্পেটিং এবং প্রায় দুই কোটি টাকায় ৮ কিলোমিটারে ইটের সোলিং বসানো হয়।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমূল হক জানান, যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে ইতোমধ্যে জিরো পয়েন্টে ১ হাজার ২০০ মিটার ও চুকনগরে ১ হাজার ২৫০ মিটার আরসিসি ঢালাই শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ৮ কিলোমিটার ইটের সোলিং অংশকে আরসিসি ঢালাইয়ে রূপান্তরের জন্য চারটি প্যাকেজে ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। সিএস অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। বাকি ১০ কিলোমিটারের ঢেউখেলানো ও উঁচু-নিচু অংশ মেরামতেও পরবর্তীতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।






