সড়কে বালুর বদলে দেওয়া হচ্ছে নদীর কাদামাটি
- কাদাপানিতে একাকার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ

ছবি: আগামীর সময়
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণে বালুর পরিবর্তে নদীর চর থেকে ড্রেজারে কাদামাটি ও পানি তুলে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্মাণাধীন সড়ক কাদাপানিতে একাকার হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের কয়েক হাজার বাসিন্দা। একই সঙ্গে সড়কের নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গত রবিবার বিকালে পৌরসভার কেরোয়া গ্রামের গজারিয়া চরে গিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে কাদামাটি ও পানি তোলার চিত্র দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরটিতে একটি ড্রেজার বসিয়ে প্রায় ৬০০ ফুট পাইপের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই পাইপ দিয়ে কাদামাটি ও পানি তুলে ফেলা হচ্ছে সড়কের বক্স কাটিং করা অংশে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়কে কাদাপানি ছড়িয়ে নির্মাণকাজ চালানোয় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেলিম হোসেন বললেন, ‘নির্ধারিত নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসরণ না করে বালুর পরিবর্তে কাদামাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের এ পদ্ধতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়কটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রাকিবুল হাসান দীপু। তবে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকার মো. শাহজাহান মাঠপর্যায়ে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। যদিও মো. শাহজাহান নামে কাউকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন ঠিকাদার রাকিবুল হাসান দীপু।
এদিকে, চর উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও স্থানীয় যুবদল নেতা আমিন মিজি নদীর চর থেকে মাটি তোলার জন্য সাব-ঠিকাদার শাহজাহানের সঙ্গে চুক্তির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক আজাদ পাটোয়ারী। চর থেকে ড্রেজারে বালু বা মাটি তোলার জন্য শাহজাহানের সঙ্গে প্রতি বর্গফুট ১৫ টাকা দরে চুক্তি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান দুলালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদিরের ভাষ্য, ‘সড়কটি আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হলেও কাজ তদারকির দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। নদীর চর থেকে ড্রেজারে কাদামাটি বা পানি তুলে সড়ক নির্মাণে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ অবৈধ।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমানের আশ্বাস, ‘অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিকের মন্তব্য, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




