ভুয়া প্রত্যয়ন দিয়ে সরকারি স্কুলে ভর্তি, তদন্তে কমিটি গঠন

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
আজ সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি আমেনা খাতুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৭ জুলাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল কবীর। আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এরই মধ্যে কয়েক কার্যদিবস পার হলেও আজ সোমবার পর্যন্ত তদন্ত শুরু করেনি কমিটি।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের বললেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে যথা সময়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
ইউএনও আমেনা খাতুন জানালেন, সহকারী কমিশনার ছুটিতে থাকায় তদন্ত কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। ছুটি শেষ হয়েছে, এখন কাজ শুরু করবে। সহোদর কোটাসহ ভর্তিসংক্রান্ত সব বিষয় তদন্ত করা হবে। পরে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে সহোদর কোটায় দুই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। তাদের একজন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। অন্যজনের আর ভাই-বোন এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেই। অভিযোগ রয়েছে— বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে সহোদর অধ্যয়নের ভুয়া প্রত্যয়ন দিয়েছেন। পরে অভিভাবকরা প্রত্যয়ন ইস্যু করে উচ্চ আদালতে গিয়ে রিট করেন।
আদালত তাদের সহোদর কোটায় ভর্তির নির্দেশনা দেন। প্রধান শিক্ষকের এমন ভুয়া প্রত্যয়ন নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তদন্তের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
আরও অভিযোগ রয়েছে- বিভিন্ন কায়দায় এই বিদ্যালয়ে আরও ২০-২৫ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে গত মার্চে একই বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম কেনাকাটায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে। সে ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তদন্ত করে।
ময়মনসিংহ বিভাগের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন অধিদপ্তরে জমা দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।






