২৪ শিক্ষক পড়িয়েছেন ৩৪ শিক্ষার্থীকে, পাস মাত্র ৪

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে একটি সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কলেজ শাখায় কর্মরত ২৪ জন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থী রয়েছেন মাত্র ৩৪ জন। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় ৩৪ জনের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪ জন। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছিলেন মাত্র একজন।
প্রতিষ্ঠানটি হলো উপজেলার চারবাড়ীয়া সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর আগের নাম ছিল ‘দি ফাদার অব দি ন্যাশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। গত শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন চিত্র সামনে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১৫ আগস্ট দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার চারবাড়ীয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। পরে ২০২১ সালের ২৯ জুন প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি করা হয়। সেসময় প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ছিল। পরবর্তী সময়ে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় চারবাড়ীয়া সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বর্তমানে কলেজ শাখায় ২৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র চারজন।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক, রাসেল মিয়া ও মাহমুদুল হকসহ কয়েকজনের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও নিয়োগ পরীক্ষার নিয়ম অনুসরণ না করে তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে কারও কারও নিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের মধ্যে যুবলীগ নেতা প্রভাষক কামরুল ইসলাম, আশরাফুল আলম, মেহেদি হাসান রাসেল এবং উপজেলা যুবলীগ সভাপতির ভাই ও অফিস সহকারী পারভেজের নাম উল্লেখ করেছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও এসব শিক্ষক-কর্মচারীর হাজিরা খাতায় অন্যরা নিয়মিত বিকল্প স্বাক্ষর করছেন। এর ফলে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও তারা বেতন-ভাতা তুলছেন। এ ছাড়া কলেজে নিয়মিত পাঠদান হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসে না। আবার কয়েকজন প্রভাষকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থীই নেই বলে দাবি স্থানীয়দের।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চারবাড়ীয়া সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক (স্কুল ও কলেজ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত) ইসরাত জাহান ফরিদা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




