গাজীপুরের ভূমি অফিসে ৩৫ জনের কাজ করছেন ১০ জন

জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে গাজীপুরের ভূমিসেবা। জেলার ৩৫টি ভূমি অফিসের মধ্যে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রয়েছেন মাত্র ১০টিতে। বাকি ২৫টি অফিসে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার ১৩টি পদও শূন্য। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে মানুষকে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের ভূমি অফিসগুলোয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তার অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১০ জন। আর ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার ৬১টি পদের বিপরীতে কাজ করছেন ৪৮ জন। গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে জনবল কম থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এতে সেবা দিতে যেমন হিমশিম খেতে হচ্ছে, তেমনি ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রার্থীরা।
ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, একটি কাজের জন্য এক বছর ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছেন তিনি। বারবার নতুন তারিখ দেওয়া হলেও কাজ শেষ হয়নি।
গাছা এলাকার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ভূমি অফিসে পূর্ণাঙ্গ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা না থাকায় কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। তার মতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ ও দায়িত্বের পার্থক্য রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা থাকলে সেবাপ্রার্থীরা দ্রুত সেবা পেতেন।
ভাওয়াল মির্জাপুর ভূমি অফিসে ছয়টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিনজন। ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মাহবুবুল হকের ভাষ্য, তিনটি ইউনিয়নের মানুষকে এই অফিসের মাধ্যমে সেবা দিতে হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনবল সংকটের পাশাপাশি পদোন্নতি না পাওয়ার হতাশাও রয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। সফিপুর ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানিয়েছেন, ২০০৩ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ২৩ বছর ধরে একই পদে আছেন। চাকরিবিধি অনুযায়ী সাত বছর পর পদোন্নতির সুযোগ থাকার কথা থাকলেও নিয়োগবিধি-সংক্রান্ত জটিলতায় তা হয়নি।
সালনা ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ চান মিয়া বলেছেন, অবসর ও মৃত্যুর কারণে বিভিন্ন পদ শূন্য হয়েছে। অন্য জেলা থেকে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা গাজীপুরে যোগ দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি আলী হোসেন বলেছেন, জনসংখ্যা ও ভূমি-সংক্রান্ত কাজ বাড়লেও সেই অনুযায়ী জনবল বাড়েনি। ফলে সীমিত কর্মী দিয়ে সময়মতো সেবা দেওয়া কঠিন হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার আশ্বাস, শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার অনুমতি দিলে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।



