মানিকগঞ্জ
তেল পাচারকালে আ.লীগ নেতার পাম্প ম্যানেজার ও ক্রেতা গ্রেপ্তার

ছবিঃ আগামীর সময়
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে কালোবাজারে তেল বিক্রির চেষ্টা নস্যাৎ করেছে প্রশাসন। অভিযানে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার ফিলিং স্টেশন থেকে জব্দ করা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল। এ সময় পাম্পের ব্যবস্থাপক ও তেল ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এই অভিযান। দেশের চলমান জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে অধিক মুনাফার লোভে এই পাচার করা হচ্ছিল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর এলাকায় ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়কসংলগ্ন রুমী ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনের মালিক জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম খান। ফতুল্লা মেঘনা ডিপো থেকে এই পাম্পের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ৯ হাজার লিটার ডিজেল।
তবে অধিক মুনাফার লোভে গত বুধবার রাতে পেট্রোলবাহী লরিটি (ঢাকা মেট্রো-চ ৪১-০০৩৫) নির্ধারিত পাম্পে খালাস না করে সরিয়ে নেওয়া হয় অন্যত্র। পরে টেপড়া এলাকায় যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিলার মামুন এন্টারপ্রাইজে অবৈধভাবে পেট্রোল খালাস করার সময় বিষয়টি নজরে আসে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই)।
এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও মনিষা রানী কর্মকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযোগের সত্যতা পান। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রুমী ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক এস এম বাবুল হোসেন (৫০) ও অবৈধভাবে তেল ক্রয়কারী ডিজেল ডিলার মামুন প্রধান (৪২)।
ইউএনও মনিষা রানী কর্মকার জানান, পাম্পের নামে বরাদ্দ করা পেট্রোল বিধি লঙ্ঘন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জব্দকৃত তেল নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ জমা দেওয়া হবে সরকারি কোষাগারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র অপচেষ্টা চালাচ্ছে কৃত্রিম সংকট তৈরির।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেছেন, এ ঘটনায় এসআই আবুল হাসান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। একসঙ্গে জব্দ করা হয়েছে তেলবাহী লরিটি।















