পঞ্চগড়
পশুর হাটে সাংকেতিক ভাষার দৌরাত্ম্য, ক্ষতির অভিযোগ খামারি ও গৃহস্থদের

ছবি: আগামীর সময়
পঞ্চগড়ের বিভিন্ন পশুর হাটে দালাল ও ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত সাংকেতিক ভাষা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন গৃহস্থ, খামারি ও ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, গরু-ছাগল বেচাকেনায় ব্যবহৃত এই ভিন্ন ভাষা না বোঝার সুযোগে অতিরিক্ত লাভ করছেন দালালরা, ফলে প্রকৃত মালিক হয়েও ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিক্রেতারা।
স্থানীয়দের দাবি, পশুর হাটে দালাল ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে এমন এক ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন, যা সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা বুঝতে পারেন না। এতে দরদাম ও লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা কমে যায় এবং ক্ষতির মুখে পড়েন গৃহস্থ ও খামারিরা।
দালাল শুকুর আলী বললেন, 'ক্রেতা-বিক্রেতা যদি বুঝেই যায়, তাহলে ব্যবসা করবো কিভাবে।'
রহমত আলী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত, তার ভাষ্য, '১৮ বছর যাবৎ এ ব্যবসা করতেছি। শুনেন ভাই, দালাল বা ঘটক ছাড়া কোন কাজটা হয়? বাবা-মায়ের বিয়ে পর্যন্তও তো হয় নাই।'
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব সাংকেতিক ভাষা ও দালালি পদ্ধতির কারণে প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। মাঝারি খামারি শফিকুল ক্ষোভ প্রকাশ করেন, 'আমরা পুরাই দালালদের কাছে জিম্মি দশায় রয়েছি। কিনতে এবং বেচতেও দালালি দিতে দিতে আমাদের লাভ থাকে না।'
রহিম মিয়া জানান, হাটে গরু এনে দালাল ছাড়া বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব। তার ভাষ্য, 'এবার একটা গরু বাড়িতেই ৭৬ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। দালালরা হাটে এনে ৯৪ হাজার টাকায় বিক্রি করলো, আমার সামনেই।'
নীলফামারী থেকে পশু কিনতে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মমিনুল শাহ মনে করেন, পশুর হাটগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন। তার মতে, এতে অনিয়ম ও প্রতারণা কমতে পারে।
কামরুল হাসান প্রধান উল্লেখ করেন, যারা ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারিত করছে, তারাও তো আল্লাহকে তুষ্ট করতে কোরবানি দিবে। এসব বিষয় খেয়াল রেখে হালাল ব্যবসা করতে দালালদের আন্তরিক হতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু হাটে বেচাকেনা স্বাভাবিক হলেও অনেক জায়গায় মাশুল আদায় নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। তাদের মতে, পশুর হাটের এই ভাষা বাংলা ভাষার ভাণ্ডারে নতুন আঙ্গিক যোগ করলেও এর আড়ালে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
খামারি ও গৃহস্থদের প্রত্যাশা, শ্রম দিয়ে লালন-পালন করে বড় করা পশুর ন্যায্য মূল্য যেন তারা পান এবং ক্রেতারাও যেন অতিরিক্ত দামের শিকার না হন।






