ইউপি চত্বরে ভাড়ায় চলছে মাছের আড়ৎ

আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরের এই জলাধারে রেখে বিক্রি হয় পাঙ্গাস মাছ। ছবি: আগামীর সময়
ছোট একটা জলাধার। পাশে রাখা নীল রঙের বেশ কিছু ড্রাম। চারদিকে মাছের গন্ধ। ভোরে এই ড্রামে আনা হয়েছিল জীবন্ত পাঙাশ। সেগুলো রাখা আছে ওই জলাধারে। দুই ফুট দূরেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। এর বারান্দায় বসে চলছে মাছ বেচাকেনার হিসাব-নিকাশ।
ছোটখাটো এই মাছের আড়তের দেখা মিলল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে। জলাধারটি আড়তদারকে ভাড়া দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু। সরকারি জায়গা ব্যবহার করে মাছ মজুদ ও বিক্রি করা যায় কি না- এ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
আটুলিয়া ইউপি চত্বরে দ্বিতল ভবনের দুই ফুট দূরে প্রায় ৩০ ফুট জায়গা জুড়ে তৈরি এই জলাধার। এটি প্রায় ছয় ফুট গভীর এবং দুই অংশে বিভক্ত। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ও ভ্যানে করে আনা হয় জীবিত পাঙাশ মাছ। সংরক্ষণ করা হয় জলাধারে। স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নেন মাছ।
পাঙাশ পরিবহন ও ওঠা-নামার সুবিধায় পরিষদ চত্বরের পেছন দিকে তৈরি করা হয়েছে একটি বড় গেটও। দিনের বিভিন্ন সময়ে মাছবোঝাই যানবাহনের আনাগোনা দেখা যায় ওই গেট দিয়ে।
আড়ৎটি পরিচালনা করছেন নওয়াবেঁকী মোড়লবাড়ি এলাকার আব্দুস সালাম। স্থানীয়রা বলছেন, তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এবং ইউপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ। সে সুযোগে সরকারি জায়গায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে ২০২৩ সাল থেকে চালিয়ে আসছেন এই আড়ৎ।
আটুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আসাদুল ইসলামের মতে, ‘একটি সরকারি অফিসের ভেতরে এভাবে মাছের ব্যবসা হচ্ছে, বিষয়টি বিস্ময়কর। পরিষদের বারান্দায় খাট বসিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ মাছের দুর্গন্ধে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’
আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহমানের অভিযোগ, বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিষদের জায়গা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
‘আমি তাদের (ইউনিয়ন পরিষদের) কাছ থেকে (ভাড়ায়) নিয়ে ব্যবসা করছি’- দাবি আড়ৎদার আব্দুস সালামের।
ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন আটুলিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ। ‘আমি ইউপি মেম্বারদের সঙ্গে বসেছিলাম। এ জায়গা ভাড়া দিয়ে যে আয় হবে, তা পরিষদের বিভিন্ন খরচে কাজে লাগবে। সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিয়েই ভাড়া দেওয়া হয়েছে’- ব্যাখা তার।
ফোন করা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি ও তাহমিনা মিলনকে। তাদের কথা, ইউপি চত্বরে পাঙাশ মাছের আড়তের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছে, তা তাদের জানা নেই। ভাড়ার অর্থ কোথায় খরচ হয়- তাও জানা নেই বলে দাবি তাদের।
বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য সরকারি স্থাপনায় এভাবে ভাড়া দেওয়া যায় কি না- প্রশ্ন করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনককে। তিনি বললেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি কথা বলব। তাকে শোকজ করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে কথা বলে দেখব। বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




