ঈদের আনন্দে কালবৈশাখীর ছোবল, তিন দিনেও ফেরেনি বিদ্যুৎ!

ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহার যে উৎসবমুখর পরিবেশ আর আলোয় সেজে ওঠার কথা ছিল চারপাশ, তাকে এক নিমেষেই ম্লান করে দিয়েছে প্রকৃতির রুদ্ররূপ। ঈদের ঠিক দুই দিন আগে গত মঙ্গলবার সকালে আঘাত হানা এক ভয়ংকর কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। আর এই ঝড়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লেগেছে উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর। তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ সরবরাহ, ফলে ঈদের দিনসহ টানা কয়েকটা দিন চরম অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার হাজারো পরিবারকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তীব্র বাতাসে বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে সরাসরি বিদ্যুতের তারের ওপর গিয়ে পড়ে। কোথাও গাছের ভারী ডাল ভেঙে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে, আবার কোথাও ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি ও মিটার। এতে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ঝড়ের পর থেকে কিছু এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হলেও, অধিকাংশ স্থানেই এখনো বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও তীব্র লোডশেডিং চলছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী ব্ল্যাকআউটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। বিশেষ করে ঈদের এই সময়ে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়ে তীব্র দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো পরিবার। ফ্রিজ বন্ধ থাকায় মাংস নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক পরিবার নির্ধারিত সময়ে কোরবানি পর্যন্ত দিতে পারেননি। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ একদিন পিছিয়ে কোরবানি দিলেও দুর্ভোগ থেকে রেহাই মেলেনি। এখনো বহু পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় একপ্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সন্ন্যাসীচর এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন বললেন, 'ঈদের মতো আনন্দের সময়ে এমন দুর্ভোগ আগে কখনো দেখিনি। আমাদের এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ আসেনি। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।'
বিদ্যুৎ না থাকার এই সংকটের কথা স্বীকার করেছে স্থানীয় প্রশাসনও। মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন শিবচর জোনাল অফিসের ডিজিএম অভিলাষ চন্দ্র পাল জানান, প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় এক হাজার মিটার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় এখনো সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি জানালেন, 'ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও খুঁটি মেরামতের কাজ বর্তমানে চলমান আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য আমাদের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।'






