ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের চারজনের দাফন সম্পন্ন

ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত একই পরিবারের চারজনের দাফন সম্পন্ন। ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের চারজনের জানাজা ও দাফন জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নে সম্পন্ন হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ৯টায় গোড়ারকান্দা এলাকায় মর্জিনা বেগম (২৫) ও তার ছেলে মোজাব্বিদ ইসলাম মিনানের (৫) জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
এরপর সকাল ১০টায় দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া এলাকায় মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫) ও তার মা রাশিদা বেগমের (৮০) জানাজা শেষে তাদেরও দাফন করা হয়। মর্জিনা বেগম অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হন। নিহত অন্য তিনজন হলেন অটোরিকশাচালক সুজন মিয়া, আকরাম আলী ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম। তাদেরও নিজ নিজ এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তার মা রাশিদা বেগমের জানাজায় জামালপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন উপস্থিত ছিলেন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে টাইলসের কাজের ঠিকাদারি করতেন। শুক্রবার সকালে তিনি তার মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। বেলা সোয়া ১টার দিকে আকুয়া বাইপাস এলাকায় তাদের বহনকারী অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চালকসহ এর সব যাত্রী নিহত হন।
স্বজনরা জানিয়েছেন, মা রাশিদা বেগম, মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনানকে কয়েক দিনের জন্য গাজীপুরে নিজের বাসায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মোফাজ্জালের।
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়াউল হক বলেছেন, ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে এই পরিবহনের বাস দুর্ঘটনায় জড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণ ও বাস চলাচলের ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুব আলী নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।




