মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে ২৩৭ বাস বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কিশোরগঞ্জের গাইটাল বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার মহাখালী রুটে বেসরকারি চারটি পরিবহনের ২৩৭টি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা।
পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আজ রবিবার সকাল থেকে কিশোরগঞ্জের গাইটাল বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার মহাখালী রুটে বেসরকারি চারটি পরিবহনের ২৩৭টি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা। বিকল্প বাসে গাজীপুর পর্যন্ত যেতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
রবিবার সকালে গাইটাল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, অনন্যা পরিবহন, অনন্যা ক্লাসিক, উজানভাটি ও জলসিঁড়ি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব পরিবহনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টার্মিনালে আসা যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করছেন।
পরিবহন মালিক সমিতি সূত্র জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে এ রুটে চলাচলকারী পুরনো বাস পরিবর্তন করে নতুন বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় তারাও সম্মতি দেন। পরে কিশোরগঞ্জের মালিকরা পুরনো বাস পরিবর্তন করে নতুন বাস চালু করলেও ঢাকার মালিকরা পুরনো বাস পরিবর্তন করেননি। বরং এ রুটে আরও বাস যুক্ত করেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল।
এর মধ্যে শনিবার ঢাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে কিশোরগঞ্জের মালিকদের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ঢাকায় কিশোরগঞ্জের পরিবহনগুলোর কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীসেবা ও পরিবহন পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মহাখালী রুটে বেসরকারি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
বন্ধ থাকা বাসের মধ্যে অনন্যা পরিবহনের ৫০টি, অনন্যা ক্লাসিকের ৫৭টি, জলসিঁড়ির ১০০টি ও উজানভাটির ৩০টি রয়েছে।
বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও গাইটাল টার্মিনাল থেকে অন্য কোম্পানির বাসে যাত্রীদের গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছিল। যাত্রীদের অভিযোগ, মহাখালী পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাড়া ৩৮০ টাকা হলেও গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, বাসগুলো মহাখালী পর্যন্ত না গিয়ে গাজীপুর থেকে খালি ফিরে আসতে হবে— এমন যুক্তিতে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল শ্রীনগর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করেন। পূজার ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে আজ রবিবার সকালে গাইটাল বাস টার্মিনালে এসে চারটি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ দেখতে পান। পরে ৪০০ টাকার টিকিট কেটে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। গাজীপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতেও তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেছেন, কিশোরগঞ্জের পরিবহন মালিকরা এ রুটে ভালো মানের বাস চালু করলেও মহাখালীর মালিকরা নিম্নমানের বাস চালাতে চান। পাশাপাশি নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত বাস চালানোরও চেষ্টা করছেন তারা। এসব বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল।
শহীদুল ইসলাম আরও বলেছেন, গত শনিবার ঢাকায় কিশোরগঞ্জের পরিবহনগুলোর কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।



