‘লাখ টাকার’ কয়লা ভেসে গেছে বৃষ্টিতে

ছবি: আগামীর সময়
একদিকে অচল পড়ে আছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। অন্যদিকে কয়লা খনির ডাম্পিং ইয়ার্ডে জমেছে স্তূপ। এতদিন রোদের তাপে পুড়ছিল এসব কয়লা। গত বুধবারের টানা বৃষ্টিতে ধসে পড়ে ডাম্পিং ইয়ার্ডের সীমানা প্রাচীর। ভেসে যায় ‘লাখ টাকার’ কয়লা। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বাড়বে ক্ষতি।
কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিন ইউনিটই এখন বন্ধ। এ কারণে খনি থেকে কেনা কয়লা নেওয়া হচ্ছে না বিদ্যুৎকেন্দ্রে। প্রতিদিন উত্তোলন করা কয়লা খনির ডাম্পিং ইয়ার্ডে জমতে জমতে তৈরি হয়েছে ছোটখাটো পাহাড়।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানালেন, ওই ডাম্পিং ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা দুই লাখ টন। এখন সেখানে জমা প্রায় ছয় লাখ টন কয়লা। এই বিশাল স্তূপ নিয়ে বিপাকে পড়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা বলছেন, ডাম্পিং ইয়ার্ডের সীমানা প্রাচীরের ওপর এমনিতেই কয়লার স্তূপের অতিরিক্ত চাপ। এর মধ্যে গত বুধবারের ভারী বৃষ্টিতে পানির চাপ যুক্ত হওয়ায় ধসে পড়ে প্রাচীর। পানির সঙ্গে ড্রেনে ভেসে যায় কয়েক লাখ টাকার কয়লা— দাবি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।
তিনি বললেন, ‘কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এই কয়লা কিনে এখানেই ফেলে রেখেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষ এসব নিচ্ছে না। এ কারণে স্তূপ জমেছে। রোদের তাপে প্রতিনিয়তই পুড়ছে এসব কয়লা।’
বিকল্প জায়গা না থাকায় প্রতিদিন উত্তোলন করা কয়লা স্তূপেই জমাতে হচ্ছে। ভেঙে যাওয়া সীমানা প্রাচীর সংস্কারের জন্য আহ্বান করা হয়েছে টেন্ডার— জানালেন এই কর্মকর্তা। তার আশঙ্কা, অতিরিক্ত ওজনের চাপে আবারও ঘটতে পারে দেয়াল ধস।
এদিকে, ভেসে যাওয়া কয়লা উদ্ধারের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ, জানালেন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।
‘গতকাল (বুধবার) বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়া কয়লা ড্রেনের তলানিতে গিয়ে জমেছে। নিজস্ব শ্রমিক দিয়ে সেসব উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আমাদের একটি ইউনিট সচল হলে কয়লা নিয়ে আসা হবে।’
ইউনিট চালু হলে প্রতি মাসে ১ লাখ টন কয়লা কাজে লাগানো হবে। তখন থাকবে না সংকট— মনে করছেন এই প্রকৌশলী।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিকত্রুটির কারণে বন্ধ গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে। দীর্ঘদিন একটি ইউনিটেই চলছিল এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন।
সেটিও যান্ত্রিকত্রুটির কারণে বন্ধ হয় গত ২২ এপ্রিল রাতে। দুদিন পর চালু হলেও ১৫ ঘণ্টা পর ফের বন্ধ হয় প্রথম ইউনিটটি।




