গাইবান্ধা
দেড় শতাধিক প্রবীণ নিয়ে গোল্ড ক্লাবের যাত্রা শুরু

ছবি: আগামীর সময়
সারা দেশের মধ্যে প্রথম জেলা হিসেবে গাইবান্ধায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল প্রবীণদের জন্য ‘আগামীর সময়’-এর বিশেষ সামাজিক উদ্যোগ— গোল্ড ক্লাব। আজ সোমবার বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দেড় শতাধিক প্রবীণ নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়।
‘প্রবীণদের পাশে আমরা’— এ স্লোগান নিয়ে গোল্ড ক্লাবের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলার শতবর্ষী প্রবীণ আলহাজ হাফেজ মো. নুরুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আপনাদের ওপর রহমত করুক। আপনারা যে কাজ করছেন, আল্লাহ সে কাজে সফলতা দান করুক।’
উদ্বোধনের সময় তার সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন ৫০ জন প্রবীণ। বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশনের সদস্যরা আগেই প্রত্যেক প্রবীণের হাতে একটি করে গোলাপ ফুল তুলে দেন। দর্শক সারিতে থাকা বাকি প্রবীণরা করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।
বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি রায়হান কবির রাতুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আগামীর সময়ের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি নেয়ামুল আহসান পামেল।
সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের অবদান অপরিসীম— এ কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা নতুন প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ। অথচ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রবীণ একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হন। গোল্ড ক্লাব শুধু একটি ক্লাব নয়; বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, মানসিক প্রশান্তি এবং সক্রিয় জীবনযাপনের একটি উষ্ণ প্ল্যাটফর্ম।
‘আগামীর সময়ের এ উদ্যোগ অনন্য। অসাধারণ। প্রবীণদের কথা বলতে গেলে কেউ ভাবে না। কিন্তু এই পত্রিকা (আগামীর সময়) সেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই’— একজন প্রবীণ তার বক্তব্যে বলেন।
প্রবীণদের একই মঞ্চে নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে গোল্ড ক্লাবের সভাপতি দন্ত্যস রওশন বললেন, ‘আমরা আমাদের প্রবীণদের শ্রদ্ধা ভালোবাসায়-সম্মানে-মর্যাদার আসনে রাখতে চাই। সারা দেশেই গোল্ড ক্লাব গড়ে উঠবে। আমরা প্রবীণদের কথা শুনব। তাদের পরামর্শ ও মতামত হবে আমাদের পাথেয়।’
‘ওল্ড ইজ গোল্ড’ এই নামকরণটি যথার্থ হয়েছে। যারা এই নামকরণ করেছেন, তারা নিজেরাও গোল্ড। আশা করি, তারা ভবিষ্যতে ডায়মন্ড হয়ে উঠুক
অনুষ্ঠানে প্রবীণরা তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং আশা প্রকাশ করেন, গোল্ড ক্লাব তাদের জন্য একটি প্রাণবন্ত সামাজিক পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া যাবে, নতুন বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা যাবে।বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রবীণ সদস্যদের কণ্ঠে গান, কবিতা আবৃত্তি আর স্মৃতিচারণের সুরে ভরে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ প্রবীণদের জীবনে নতুন আলো বয়ে আনবে এবং তাদের প্রতিটি দিনকে করে তুলবে আরও অর্থবহ ও আনন্দময়।
প্রবীণদের মধ্যে আমজাদ হোসেন দীপ্তি তার বক্তব্যে বললেন, ‘এরকম উদ্যোগ আমাকে অভিভূত করেছে, আগামীর সময়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।’
প্রফেসর মুকুল বলছিলেন, ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’ এই নামকরণটি যথার্থ হয়েছে। যারা এই নামকরণ করেছেন, তারা নিজেরাও গোল্ড। আশা করি, তারা ভবিষ্যতে ডায়মন্ড হয়ে উঠুক।’
গোল্ড ক্লাবের কার্যক্রম শুধু গাইবান্ধায় নয়, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ুক— এই আশা সংঘের সাধারণ সম্পাদক মনসুরের।
বিশ্ব সংগীতশিল্পী জাফর আলম জানালেন, প্রবীণরা যেন সবার সুখ-দুঃখের খবর রাখতে পারেন, এরকম উদ্যোগ গাইবান্ধায় এটাই প্রথম। সাধুবাদ জানালেন উদ্যোক্তাদের।
আরও বক্তব্য দেন, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মাকসুদুর রহমান সাহান এবং কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফারুকী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— জেলা কালচারাল অফিসার মো. আসাদ সরকার এবং আগামীর সময়ের হেড অব ক্রিয়েটিভ, রিসার্চ অ্যান্ড ইভেন্টস শিমুল সালাহ্উদ্দিন।






