গোপালগঞ্জের সামাউলের ২২ একরের বাগানে ১২ হাজার গাছ
- বছরে আয় এখন অর্ধকোটি

সংগৃহীত ছবি
আড়াই একর জমি দিয়ে লেবু চাষ শুরু করেছিলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কদমপুর গ্রামের সামাউল ইসলাম। ছয় বছরে বাগানের পরিধি ঠেকেছে ২২ একরে। ১২ হাজার গাছে সারা বছর ধরে ফলছে বীজহীন লেবু। তা বিক্রি করে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আয় করছেন তিনি। বাগানে কর্মসংস্থান হয়েছে ২৫ জন শ্রমিকের।
সামাউল ইসলামের এই সাফল্যের শুরু বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায়। তার ভাষ্য, ছয় বছর আগে প্রতিষ্ঠানটির গোপালগঞ্জ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের সহায়তায় জমি লিজ নিয়ে লেবু চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথম বছরেই অল্প পরিমাণে ফলন পেতে শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে বাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন।
সামাউলের বাগানের লেবুর বিশেষত্ব হলো, এতে বীজ নেই, রস বেশি এবং সুগন্ধ ভালো। সারা বছর ফলন পাওয়া যায় বলে বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে লেবুর চাহিদা বেড়ে যায়। লেবু বিক্রির জন্য তাকে দূরের বাজারে ছোটাছুটি করতে হয় না। পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে লেবু কিনে নেন। পরে গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে তা বিক্রি করেন। লেবু চাষে সামাউলকে চারা, সার, ছত্রাকনাশক, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মামুনুর রহমানের ভাষ্য, ফল চাষ কৃষকদের সারা বছর আয়ের সুযোগ তৈরি করে। সামাউলের সাফল্য দেখে মুকসুদপুর ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক লেবু বাগান গড়ে উঠেছে। তার আশা, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে লাভজনক ফল চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।



