কলকাতায় আগুনে স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরসহ নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে লাগা আগুনে পরিবারসহ প্রাণ হারালেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০)। নিহতদের মধ্যে আছেন তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)।
তাদের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায়। দেবাশীষ কাজ করতেন দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে। পাশাপাশি ছিলেন স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক।
আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানালেন, দেবাশীষ-আফসানা দম্পতির ৮ বছরের একটি মেয়েও আছে। তবে তাকে কুষ্টিয়ার বাড়িতে রেখে ভারত যায় পরিবারটি।
কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুন লাগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, এতে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, ওই আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ বাংলাদেশি। এর মধ্যে আছেন একই পরিবারের ৪ জন। সেটিই সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করেছেন কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা। উপ-হাইকমিশন থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে, এসি বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ঘন ধোঁয়ার কারণে দমকলকর্মীদের সিঁড়ি বেয়ে উপরের তলায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত হলেও, সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা তার।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি রোগীদের অন্যতম গন্তব্যস্থল ভারত। কলকাতাসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে চিকিৎসা নেন এসব রোগী। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভিসা জটিলতা ও কড়াকড়ির কারণে ভারতে যাওয়া কিছুটা কমেছিল।






