কুরিয়ারের চালককে নির্যাতনের অভিযোগে ৪০ জন আটক

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী গাড়ি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চালক শাহ আলমকে নির্যাতনের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গোলাগুলির অভিযোগের মধ্যে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের চালক শাহ আলম ও তার সহকারী ঘাটারচর মোড়ে পণ্যবাহী গাড়ি রেখে চা পান করতে গেলে গাড়িটি চুরি হয়ে যায়। পরে তিনি বিষয়টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জানান।
শাহ আলমের অভিযোগ, গাড়ি উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে তাকে একটি ওয়্যারহাউজে নিয়ে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তিনি দাবি করেন, তার পায়ের নখ উপড়ে ফেলা হয় এবং মুখে অ্যাসিডজাতীয় পদার্থ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করলে একপর্যায়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ইমন, মুরসালিন, হাসান ও সিয়ামের নাম জানা গেছে।
চালক আবু সাইদ অভিযোগ করেন, তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এদিকে অভিযানের সময় আটক হওয়া মোহাম্মদ হৃদয় হাসানের পরিবারের সদস্যরা তার মুক্তি ও সন্ধান দাবি করেছেন। হৃদয়ের মা মুরসেদা বেগম বলেছেন, ছেলেকে আটকের পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেছেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।
তবে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





