পিরোজপুর হাসপাতালে দুদকের অভিযান: উঠে এলো নানা অব্যবস্থাপনা

ছবি: আগামীর সময়
পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও রি-এজেন্টের সঠিক ব্যবহার না হওয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জেনারেটর বন্ধ রাখা, রোগীদের খাবার না দেওয়া এবং চিকিৎসাসেবায় অবহেলার অভিযোগে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযানে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের সরকারি খাবার না দেওয়া এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নানা অব্যবস্থাপনার সত্যতা পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল এ অভিযান পরিচালনা করে।
টিমের নেতৃত্ব দেন পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন। এ সময় উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল ও মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সম্রাট সঙ্গে ছিলেন।
অভিযান পরিচালনাকারী দল জানায়, পিরোজপুর সদর হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে রোগীদের মধ্যে বেশ অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও রি-এজেন্ট ব্যবহারে অনিয়ম এবং বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর চালু না রাখার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অভিযানকালে হাসপাতালে ৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তবে সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ রোগী বাধ্য হয়ে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাচ্ছেন। রোগীরা জানান, হাসপাতাল থেকে দ্রুত পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদের বাইরের সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এদিকে, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের খাবার সরবরাহ না করার অভিযোগের সত্যতা মেলে দুদক টিমের তদন্তে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানায়, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বর্তমানে মাত্র ১০০ জনের বরাদ্দে খাবার সরবরাহ করতে হচ্ছে।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালে সেবার মান বিঘ্নিত করা, দালালচক্রের সক্রিয়তা এবং কর্মচারীদের গাফিলতির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। দালালচক্র দমনে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সতর্ক করা হয়।
এ ছাড়া অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।



