সোনারগাঁয়ে বিএনপির সাবেক কর্মীকে পিটিয়ে-কুুপিয়ে হত্যা

রাজু আহমেদের মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় বিএনপির সাবেক কর্মী রাজু আহমেদকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনরা একে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড বললেও পুলিশ জানাচ্ছে, তদন্তের পর জানা যাবে মূল কারণ।
গতকাল রবিবার রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন এসব জানিয়েছেন।
নিহত রাজু আহমেদ ওই এলাকায় গরুর খামার চালাতেন। তিনি একসময় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিন মাস আগে রাজনীতি থেকে সরে যান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এসব জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল রাতে রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মারামারিতে রূপ নেয়। এ সময় রাজু গিয়ে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন। পরে নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে হামলাকারীরা রাজুকে পিটিয়ে ও ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। ঠেকাতে গেলে হামলায় আহত হন পরিবারের অন্য সদস্যরা। স্থানীয় লোকজন আহতদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।
শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের তথ্য, নিহত রাজু বিএনপির কোনো পদধারী নেতা ছিলেন না। তবে তিনি দলের সমর্থক ছিলেন। শাহাদাত হোসেনের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাতের ভাষ্য, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিন দিন ধরে তিনি বাবার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থান করছেন। শাহাদাতের দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘ঘটনাটি রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’




