গ্যাস ফিরতেই মাধবপুরের শিল্পাঞ্চলে কর্মচাঞ্চল্য

ছবি: আগামীর সময়
কয়েক দিনের গ্যাস সংকটে থমকে থাকা হবিগঞ্জের মাধবপুরের শিল্পাঞ্চলে আবারও ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। আজ শনিবার সকাল থেকে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় উপজেলার ২৪টি ভারী শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ফের শুরু হচ্ছে।
বাদশা পাইওনিয়ার ডেনিম, ম্যাটাডোর, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, সায়হাম গ্রুপ ও ফার ইস্ট স্পিনিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা দিয়েছে স্বস্তি।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বুধবার বিকাল থেকে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাধবপুরের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। টানা প্রায় তিন দিন গ্যাস সংকটে অনেক কারখানার উৎপাদন লাইন কার্যত অচল ছিল। চাহিদা ও ক্রয়াদেশ থাকা সত্ত্বেও পণ্য উৎপাদন করতে না পারায় উদ্যোক্তারা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েন।
বিশেষ করে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। উৎপাদন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
মাধবপুরের যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) আবুল হোসেন জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। এখন চাপ বাড়তে শুরু করায় কারখানাগুলো ধীরে ধীরে সচল হচ্ছে। শ্রমিকেরাও কাজে ফিরছেন।
তেলিয়াপাড়ার ফার ইস্ট স্পিনিং মিলের মহাব্যবস্থাপক সুমন আহমেদ জানিয়েছেন, কয়েক দিন গ্যাস না থাকায় উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আবার উৎপাদনে ফিরতে পারছেন তারা।
স্টার সিরামিকসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন বলেছেন, শনিবার সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। চাপ স্থিতিশীল থাকলে দ্রুত পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে।
শাহজীবাজার জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. খালেদ গণি জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৮টা থেকে ছোট-বড় ৮১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসের চাপ সন্তোষজনক রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, চট্টগ্রামের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন এবং জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট তীব্র হয়েছিল। এর প্রভাব পড়ে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও। পরে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে চাপ কমে এবং মাধবপুরেও গ্যাসের প্রবাহ বাড়তে শুরু করে।







