গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার জনগণকে অপমান করেছে: জামায়াত আমির

শনিবার বিকালে যশোরের মুড়লীর মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: আগামীর সময়
গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার জনগণকে অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এর জবাব জনগণ তাদের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেবে।
আজ শনিবার বিকালে যশোরের মুড়লীর মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বললেন, সাত দফা দাবি কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং এটি জনগণের দাবি। জনগণের পক্ষ থেকেই ১১ দলীয় ঐক্য এসব দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছে।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সরকার সেই গণরায় অস্বীকার করেছে। তার অভিযোগ, ‘সংসদ নির্বাচনের রায় ছিনতাই করা হলেও গণভোটের রায় ছিনতাই করতে পারেনি সরকার। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার কথা বললেও ক্ষমতায় বসার পর সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।’
তিনি বললেন, ‘আপনাদের রায়কে তারা অস্বীকার করেছে, আপনাদের অপমান করেছে, অগ্রাহ্য করেছে। এর প্রতিশোধ জনগণ নেবে ইনশা আল্লাহ। জনগণ তাদের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রতিশোধ নেবে।’
সাত দফা দাবির মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান মত দেন, এই দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বাকি ছয়টি দাবি নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছে। একটি ইনসাফপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও যুবসমাজের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রথম দফা দাবি সবার আগে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সময় আছে, সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিন। সময় যদি চলে যায়, তাহলে কেউ আর আপনাদের দিকে ফিরে তাকাবে না।’
বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণ কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, তাদের মধ্যে কারা এসব কার্ড পেয়েছেন। এ সময় কেউ হাত না তুললে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশের জনগণ না?’
ডা. শফিকুর রহমান বললেন, এসব কার্ড জনগণের অর্থে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে সাধারণ মানুষ কেন তা পাচ্ছে না, কার্ডগুলো কোথায় যাচ্ছে- সেই প্রশ্ন রয়েছে। কার্ড বিতরণে অনিয়মের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি রাতের বেলা পুকুরপাড়ে কার্ড বিতরণের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন।
বক্তব্যের শুরুতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে তাকে স্বাগত জানানোর জন্য যশোরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, মানবিকতা, দেশ, জনগণ ও এই মাটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অপেক্ষা করেছেন।
প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে লংমার্চের পরবর্তী যাত্রার কথা জানান তিনি।
দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর আড়াইটায় পথসভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির হামিদ হোসেন আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, শার্শা আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান, ঝিকরগাছা-চৌগাছা আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, মনিরামপুরের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক এবং কেশবপুরের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।



