আগুন, ধোঁয়া আর ২০০ টাকার জীবন

ছবি: আগামীর সময়
চুলার সামনে দাঁড়িয়ে লাকড়ি দিচ্ছিলেন মৌসুমী। আগুনের লেলিহান শিখা তার মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে, চোখে ধোঁয়ার জ্বালা। তবুও হাত থামে না। সংসারের চাকা তো থেমে থাকার সুযোগ দেয় না।
পাশে থাকা আরেক নারী শ্রমিক হঠাৎই প্রশ্ন করলেন, ভাই, এত গল্প শুনে কী করবেন?
বললাম, মে দিবস নিয়ে লিখবো।
একটু চুপ থেকে মৃদু হাসলেন আমেনা। সেই হাসির ভেতরে যেন লুকানো কষ্টের পাহাড়। ওহ, তাই নাকি! আমাদের গরিবের আবার দিবস আছে নাকি?
কথা হয় ফাতেমার সঙ্গে। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় তাদের দিন। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা, টানা ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা কাজ। চুলার আগুন, গরম তেল, ধোঁয়া আর ক্লান্ত শরীর, এই নিয়েই তাদের প্রতিদিনের জীবন।
পাশেই বসে পাটায় জিরা বাটছিলেন আরেক নারী। মাথা না তুলেই বললেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করি। কাজ নাই তো টাকা নাই।
তাদের ভাষ্য, দিনশেষে এই শ্রমের মূল্য ২০০ টাকা। পুরুষরা পায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
জামালপুরের হোটেল শ্রমিক রকিবুল বললেন, আগুনের তাপে ১৩ ঘণ্টা কাজ করি। তারপরও যা পাই, তাতে সংসার চলে। তবে যেদিন ক্লান্তি শরীরে কাজে আসা হয় না, সেদিনই টান পড়ে সংসারে।
অসুস্থতা, ক্লান্তি, কিছুই যেন তাদের জন্য অজুহাত নয়। কারণ একদিন কাজ না মানেই সেই দিনের ভাত জোটে না।
একাধিক হোটেল মালিক জানান, রাজবাড়ীতে ৬০টির বেশি হোটেল আছে। এর মধ্যে বালিয়াকান্দিতে প্রায় ১০টি হোটেলে কাজ করেন এ রকম শ্রমিকরা। আর পুরো রাজবাড়ী জেলায় এমন হোটেলগুলোতে ৩ শতাধিক দিনমজুর প্রতিদিন একই লড়াইয়ে নামেন, বেঁচে থাকার লড়াই।
মা হোটেলে কাজ করা ফাতেমার ভাষ্য, আমার এক পেট, দিন শেষে দুইশো টাকা পাই। এই দিয়ে চলে, তবে ওষুধ কিনতে গেলে টান পড়ে।
মে দিবস আসে, যায়। শহরের ব্যানার, র্যালি, বক্তৃতায় শ্রমিকের অধিকার নিয়ে উচ্চকিত স্লোগান ওঠে। কিন্তু মৌসুমী, আমেনা, ফাতেমাদের জীবনে সেই দিবসের ছোঁয়া কতটুকু পৌঁছায়?



