আগৈলঝাড়া
থানায় হামলা মামলায় দুই সাংবাদিককে আসামি করায় প্রতিবাদ

ছবি: আগামীর সময়
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের দুই সাংবাদিককে আসামি করায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাব।
একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি এফ এম নাজমুল রিপন এবং সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট দুই সাংবাদিক যদি কেবল সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে থাকেন তবে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা উচিত।
তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মিললে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
অভিযুক্ত সাংবাদিক এফ এম নাজমুল রিপন দাবি করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদের জেরে তার বিরুদ্ধে একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
অপর আসামি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ষড়যন্ত্র করে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খানের ভাষ্য, ভিডিও ফুটেজ, প্রাথমিক তদন্ত ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারী ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে হয়রানি করা হবে না।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। থানা হাজতে তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। পরে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরদিন রিয়াজ ফকির পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন এমন গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় হামলা, ভাঙচুর এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা ও কে এম আজাদ রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর বিশ্বাস ননী, সহসভাপতি এইচ এম মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক এল আর মানিক এবং সদস্য আকাশ মাহমুদ, বরুণ বাড়ৈ, মানিক হাওলাদার ও স্বপন দাসসহ অন্যরা।




