ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ, তাক লাগিয়েছেন দিনাজপুরের তাওহিদ

ছবি: আগামীর সময়
ধান, ভুট্টা, আলু ও সবজি চাষে অভ্যস্ত দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের কৃষকেরা। সেই চেনা চাষাবাদের বাইরে গিয়ে নিজের জমিতে আঙুরের বাগান গড়ে তুলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা তাওহিদুল ইসলাম তাওহিদ। ইউটিউবে আঙুর চাষের বিভিন্ন ভিডিও দেখে কৌশল রপ্ত করে ১০ শতাংশ জমিতে ৮৫টি গাছ লাগিয়েছেন তিনি। এখন তার বাগানে থোকায় থোকায় আঙুর ঝুলছে।
তাওহিদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই তার বাগানে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষ। তাদের অনেকের কাছেই এলাকার মাটিতে আঙুর ফলানো এখনো বিস্ময়ের বিষয়।
তাওহিদুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামে। পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই আঙুর চাষের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। এলাকায় এ ধরনের চাষের প্রচলন না থাকায় শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় তাকে। তবে তাতে দমে যাননি। ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের আঙুর চাষের ভিডিও দেখে গাছের পরিচর্যা, মাচা তৈরি, ডাল ছাঁটাই, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের কৌশল শেখেন।
পরে নিজের ১০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন জাতের ৮৫টি আঙুরের চারা লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। নিয়মিত পরিচর্যার পর এখন গাছে ফল এসেছে।
তাওহিদুল ইসলাম তাওহিদ বলেন, ‘ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের আঙুর চাষের ভিডিও দেখে আমার আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথমে মনে হয়েছিল, আমাদের এলাকার মাটিতে হয়তো ভালো ফলন হবে না। পরে নিজেই চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিই। নিয়মিত পরিচর্যা ও বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এখন গাছে ভালো ফলন পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে।’
মোগরপাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা আবদুল কাদের বলেন, তাদের এলাকায় ধান, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষই বেশি হয়। তাওহিদের জমিতে প্রথম আঙুরের গাছ দেখে তিনি অবাক হয়েছিলেন। এখন সেই গাছে ফল ধরেছে। তাওহিদের উদ্যোগ দেখে তারও নতুন ধরনের ফসল চাষের বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নলেয়া গ্রামের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, ‘আঙুর সাধারণত দেশের বাইরে বা অন্য এলাকার ফল হিসেবেই আমরা জানতাম। আমাদের এলাকায় একজন তরুণের উদ্যোগে এভাবে আঙুর ফলছে, এটা সত্যিই ভালো লাগার বিষয়। কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে এমন উদ্যোগ আরও অনেক তরুণ নিতে পারবেন।’
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ফল ও ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাওহিদের আঙুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এ চাষে মাটি, জাত নির্বাচন, পানি নিষ্কাশন, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকেরা মনে করছেন, প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে তাওহিদের মতো তরুণেরা নতুন কৃষি উদ্যোগ নিলে কৃষিতে বৈচিত্র্য আসার পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
ইউটিউবের ভিডিও দেখে শুরু করা তাওহিদের উদ্যোগ এখন শুধু তার নিজের বাগানে সীমাবদ্ধ নেই। আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও এটি তৈরি করেছে নতুন আগ্রহ ও কৌতূহল। তার বাগানে ফলন ও বাজারজাতকরণ সফল হলে নবাবগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



