দুর্গম থানচিতেও হামের হানা

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা বান্দরবানের থানচির দুর্গম লিটক্রে এলাকায় দেখা দিয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। রেমাক্রি ইউনিয়নের ছয়টি পাড়ায় অন্তত ৮৪ শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রবিবার ৫ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেখানে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ইঞ্জিনচালিত ভাড়া করা বোটে করে মেডিকেল টিমকে লিটক্রে এলাকায় পাঠানো হয়েছে। টিমটি ফিরে এলে আক্রান্তদের অবস্থা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যাবে বিস্তারিত।
রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুই শৈথুই মারমা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ছয়টি পাড়ার মধ্যে পাঁচটি ম্রো জনজাতি অধ্যুষিত এবং একটি ত্রিপুরা জনজাতির বসতি। আক্রান্ত এলাকাগুলো হলো লিটক্রে ম্রো পাড়া, সূর্যমণি ত্রিপুরা পাড়া, ছোট ইয়াংবো পাড়া, বড় ইয়াংবো পাড়া, রেনি ম্রো পাড়া ও মানজা ম্রো পাড়া।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মাংচং ম্রো উল্লেখ করেন, এসব পাড়া থানচি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সাঙ্গু নদীপথ ছাড়া সেখানে যাতায়াতের অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে আক্রান্ত রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আলীকদম থেকে কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী সম্প্রতি লিটক্রে এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরেছে। তাদের মাধ্যমে এলাকায় হাম ছড়িয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মাংচং ম্রো মন্তব্য করেন, শুধুমাত্র মেডিকেল টিম পাঠানোর পরিবর্তে আলীকদমের মতো এক বা একাধিক ক্যাম্প হাসপাতাল স্থাপন করা গেলে স্থানীয় রোগীরা দ্রুত চিকিৎসাসেবা পেতেন এবং অসুস্থদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিতে হতো না।
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পরপরই বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতাও প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তসংলগ্ন বান্দরবানের আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলাতেও হামের প্রকোপ দেখা দেয়। হামের উপসর্গ নিয়ে আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নে পাঁচজন এবং লামার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর।




