সোনাইমুড়ী সাবরেজিস্ট্রার অফিস
‘সম্মানী’ দিলেই রেজিস্ট্রি হয় দলিল!

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন ও নকল সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজে সরকারি ফির বাইরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে দলিলে স্বাক্ষর করেন না সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল হক। এ ছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে দলিল ফেরত দেওয়া এবং নকল সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, সাবরেজিস্ট্রারের নির্ধারিত ‘সম্মানী’ দেওয়া হলে দলিলের কোনায় বিশেষ চিহ্ন দিয়ে তা এজলাসে পাঠানো হয়। আর যারা ওই টাকা দিতে চান না, তাদের কাগজপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে দলিল ফেরত দেওয়া হয়।
বারাইপুর গ্রামের মজিবুল হক অভিযোগ করেন, তার একটি দলিলে সামান্য দাগের ভুল থাকায় সাবরেজিস্ট্রার ও তার অফিস সহকারীকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আরেক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেওয়ার পরও একটি দলিল নিবন্ধনে সরকারি খরচের বাইরে আরও দুই লাখ টাকা কমিশন দিতে হয়েছে তাকে।
দলিল লেখক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্যের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও সাধারণ দলিল নিবন্ধনে দাতা ও গ্রহীতাদের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হয়। আমমোক্তারনামা ও দানপত্রের মতো বিশেষ দলিলের ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, হেবা ঘোষণা দলিলে জমির মূল্যের ওপর প্রতি লাখে এক থেকে দুই হাজার টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়া হয়। কমিশন দলিলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি ফি তুলনামূলক কম হলেও এসব দলিলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ক্ষেত্রবিশেষে এর চেয়েও বেশি টাকা নেওয়ার দাবি করেছেন তারা।
এ ছাড়া বায়না দলিলে একধরনের মূল্য দেখিয়ে পরে মূল দলিলে জমির মূল্য কয়েক গুণ কম দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
সেবাগ্রহীতাদের আরও অভিযোগ, দলিলের নকল তুলতে সরকারি ফি ২৭০ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় প্রায় দুই হাজার টাকা। সাবকবলা দলিলের মূল্য এক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হলে সরকারি ফির বাইরে সেরেস্তা বাবদ আড়াই হাজার টাকা নেওয়া হয়। দলিলের মূল্য এক লাখ টাকা বা তার বেশি হলে প্রতি লাখে আরও ৩০০ টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিনিময় দলিলের ক্ষেত্রে ব্যাংক চালান জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। বণ্টননামা ও অসিয়ত দলিলের ক্ষেত্রেও দলিলের মূল্যের ওপর অতিরিক্ত এক শতাংশ হারে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
নকল সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে নকল প্রস্তুত হওয়ার পরও দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত তাতে স্বাক্ষর করা হয় না। এতে প্রয়োজনীয় কাগজ পেতে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।





