ঝোপে ফুটেছে বনওকড়া

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের রতনপুর চা বাগান সড়কের পাশ থেকে তোলা বনওকড়ার ছবি।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সড়কের পাশে ঝোপঝাড়ে ফুটেছে বুনো ফুল বনওকড়া। সবুজ পাতার ফাঁকে ছোট ছোট গোলাপি ফুল প্রকৃতিতে ছড়াচ্ছে সৌন্দর্য। একসময় ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত এ গাছ কালের বিবর্তনে মানুষের কাছে অনেকটাই অপরিচিত হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি প্রাতঃভ্রমণে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের রতনপুর বাজার থেকে নোয়াপাড়া চা বাগানগামী সড়কের পাশে বনওকড়া ফুলের দেখা মেলে। সড়কের ধারে অযত্নে বেড়ে ওঠা গাছটির গোলাপি ফুল সকালের স্নিগ্ধ পরিবেশে ভিন্ন সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে।
বনওকড়ার বৈজ্ঞানিক নাম ইউরেনা লোবাটা। এটি মালভেসি বা জবা পরিবারের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। বন ঘাগরা ও জংলি ঘাগরা নামেও পরিচিত গাছটি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার মাঠ, রাস্তার পাশ ও ঝোপঝাড়ে জন্মে। বর্ষা ও শরৎকালে সাধারণত এ গাছে বেশি ফুল ফোটে। ফুলগুলো ছোট, পাঁচ পাপড়িবিশিষ্ট ও হালকা গোলাপি রঙের। ফুল ঝরে যাওয়ার পর গাছে ছোট কাঁটাযুক্ত ফল ধরে।
স্থানীয় এনজিও কর্মকর্তা আব্দুল বাছির রাজা বললেন, গাছটি অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে ওঠে এবং স্বাভাবিকভাবেই ফুল ফোটে। অনেকের চোখে পড়লেও এর পরিচিতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে সবাই জানেন না।
রতনপুর এলাকার কৃষক তাহের মিয়া জানালেন, আগে মানুষ বনওকড়াকে ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহার করত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কাছে অনেকটাই অপরিচিত হয়ে গেছে গাছটি।
উদ্ভিদবিষয়ক বিভিন্ন তথ্যে বনওকড়ার শিকড় ও পাতার লোকজ ঔষধি ব্যবহারের উল্লেখ আছে। কিছু অঞ্চলে এর কচি পাতা শাক হিসেবেও খাওয়া হয়। এ ছাড়া গাছটির কাণ্ড থেকে আঁশ পাওয়া যায়। তবে এসব ব্যবহার সম্পর্কে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকায় রোগের চিকিৎসায় গাছটির পাতা বা শিকড় ব্যবহার করা উচিত নয়।




