বংশী নদীর সংযোগ খাল ভরাট, আশুলিয়ায় ২ হাজার বিঘা জমির ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতি গ্রামে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আধাপাকা ধানের সমারোহ। ভালো ফলন সত্ত্বেও স্থানীয় কৃষকদের মনে স্বস্তি নেই। বংশী নদীর সংযোগ খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং সেখানে কলকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত পানি জমে থাকায় বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্ষার শুরুতে সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারের পানিতেই তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির ফসল।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নবীনগর ও চন্দ্রা মহাসড়কের চক্রবর্তী এলাকা থেকে ধামসোনা হয়ে বংশী নদীতে গিয়ে মিশেছে এই সংযোগ খালটি। এক সময় এই খালের পানি কৃষিকাজে আশীর্বাদ হলেও বর্তমানে তা বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। খালটি দীর্ঘকাল খনন না করায় গভীরতা কমে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং কলকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত বিষাক্ত পানি ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে আধাপাকা ধান নষ্ট করে দেয়।
কলতাসূতি গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম আক্ষেপ করে জানান, দুই দশক আগেও তারা এই খালের পানি দিয়ে সেচ দিতেন। এখন খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই বর্জ্যযুক্ত পানি খেতে ঢুকে পড়ে। কৃষক জামাল মিয়া দাবি করেন, ধান পুরোপুরি পাকার আগেই জোয়ারের পানি বা জলাবদ্ধতার ভয়ে অনেক কৃষক অপরিপক্ব ধান কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় বছর শেষে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
একই সমস্যার কারণে চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন স্থানীয় যুবক সাইদুর রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ধান কাটার মৌসুমে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে তার বাবা এখন চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন। এই সংকট থেকে উত্তরণে তিনি দ্রুত খালটি পুন খননের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বললেন, বংশী নদীর সংযোগ খালটি কৃষি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ে ৪০টি খাল খননের যে তালিকা করা হয়েছে, তার দ্বিতীয় ধাপে এই খালটি পুন খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই কার্যক্রম সফল হলে স্থানীয় কৃষকরা আগের মতো খালের পানি ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। কৃষকদের প্রত্যাশা, দ্রুত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কলতাসূতি এলাকার কৃষিজীবী পরিবারগুলোতে আবার হাসি ফিরবে।



