জ্বালানি ছাড়াই শক্তি উদ্ভাবনে সফল, দাবি সুহাইলের

আবদুর রহমান সুহাইল
কুমিল্লার তিতাসের আবদুর রহমান সুহাইল নামে এক যুবক মাধ্যাকর্ষণ বল ব্যবহার করে জ্বালানিবিহীন শক্তি উৎপাদনের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন বলে দাবি করেছেন।
তার ভাষ্য, এ উদ্ভাবনের জন্য তিনি সরকারের কাছে কোনো আর্থিক অনুদান বা বিশেষ সুবিধা চান না। বরং সরকারের উদ্যোগে তার উদ্ভাবনের কার্যকরী প্রোটোটাইপ (Functional Prototype) বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দাবি জানান।
সুহাইলের দাবি, পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ভাবনটি কার্যকর, বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং নতুনত্বপূর্ণ প্রমাণিত হলে জাতীয় স্বার্থে সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এর আন্তর্জাতিক পেটেন্ট সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
তিনি আরও বললেন, অতীতের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কারণে কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি তার আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। সে কারণেই তিনি এখন পর্যন্ত তার উদ্ভাবনের পেটেন্ট আবেদন করেননি। তবে বর্তমান সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আবদুর রহমান সুহাইল কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কয়েকটি প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তার গবেষণা কার্যক্রম থেমে থাকেনি।
সুহাইল জানান, ২০২২ সালের শেষের দিকে তার গবেষণার মূল ধারণা আসে এবং ২০২৩ সালে তিনি তাত্ত্বিকভাবে সফল হন। এরপর প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেন। গবেষণার অর্থ জোগাড় করতে তিনি দিনমজুর হিসেবেও কাজ করেছেন বলে জানান।
তিনি বললেন, ২২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি তার উদ্ভাবনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।
সুহাইলের অন্যান্য গবেষণা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রোবোটিক কুকার (Robotic Cooker), ওয়াটার বুট (Water Boot) এবং সেফটি গ্যাজেট (Safety Gadget)। এসব প্রকল্পের মধ্যে একটি প্রকল্পে তিনি তাত্ত্বিকভাবে সফল হয়েছেন বলে দাবি করলেও এখনো কোনো পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়নি বলে জানান।
তিনি জানান, তার পরিকল্পনা হলো প্রথমে মধ্যাকর্ষণ-ভিত্তিক ইঞ্জিনের পেটেন্ট সম্পন্ন করা এবং এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রকল্পের পরীক্ষামূলক গবেষণা শুরু করা।
সুহাইল উল্লেখ করেন, তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। গত ৬ জুলাই মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সে সময় মন্ত্রী তার উদ্ভাবন সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি তার প্রস্তাবসমূহ লিখিতভাবে উপস্থাপন করার পরামর্শ দেওয়া হলে তিনি তা সম্পূর্ণভাবে লিখিত আকারে জমা দেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সরকারের কাছে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রথমত, তার উদ্ভাবিত মধ্যাকর্ষণ-ভিত্তিক ইঞ্জিনের কার্যকরী প্রোটোটাইপ মূল্যায়নের জন্য পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা। দ্বিতীয়ত, কমিটির মাধ্যমে উদ্ভাবনটির পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক ও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা। তৃতীয়ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ভাবনটি সফল ও কার্যকর প্রমাণিত হলে সরকারি দায়িত্বে এর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পেটেন্ট সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সুহাইলের মতে, মানবসভ্যতা প্রায় সব ক্ষেত্রেই শক্তির ওপর নির্ভরশীল। তার বিশ্বাস, উদ্ভাবনটি বৈজ্ঞানিকভাবে সফল ও কার্যকর প্রমাণিত হলে এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রযুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী মৌলিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।
সুহাইল জানান, তিনি তার সফল উদ্ভাবনের একটি ডেমো প্রোটোটাইপ প্রস্তুত করেছেন। তবে পেটেন্ট সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোটোটাইপ ও প্রোডাকশন প্রোটোটাইপ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করবেন না। তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের একটি দল শিগগিরই এর কার্যকরী প্রোটোটাইপ বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন বলে তিনি আশা করছেন।
পেটেন্ট সম্পন্ন হওয়ার আগে আগ্রহীরা চাইলে ডেমো প্রোটোটাইপ দেখতে পারবেন এবং গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন করতে পারবেন বলেও তিনি জানান।




