পুনরায় চালু হচ্ছে শহীদ জিহাদ গ্রন্থাগার

ছবি: আগামীর সময়
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া দশমিনার সন্তান জিহাদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে পুনরায় চালু করা হচ্ছে শহীদ জিহাদ গ্রন্থাগারের কার্যক্রম। এ লক্ষ্যে সোমবার সকাল ১১টায় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় গ্রন্থাগারের কার্যক্রম পুনরায় শুরু এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল হক নুর।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সন্তান এবং সরকারি কবি নজরুল কলেজের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী জিহাদ। তার স্মৃতি অম্লান রাখতে স্থানীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয় শহীদ জিহাদ গ্রন্থাগার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নুরুল হক নুর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে পাঠাগারভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গ্রন্থাগারটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেছেন, শহীদ জিহাদ গ্রন্থাগারকে একটি আধুনিক ও কার্যকর জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। তাঁর ভাষ্য, গ্রন্থাগারটি পুনরায় চালুর মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষার্থী, পাঠক ও সচেতন নাগরিকদের জন্য একটি সমৃদ্ধ জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরি হবে।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা শহীদ জিহাদের স্মৃতি সংরক্ষণ, গ্রন্থাগারের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং তরুণদের জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে মতামত দেন।
আলোচনা শেষে শহীদ জিহাদ গ্রন্থাগারকে একটি প্রাণবন্ত ও কার্যকর পাঠকেন্দ্রে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




