রাজশাহী বোর্ডের পাঁচ স্কুলে সবাই ফেল

ফাইল ছবি
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কোথাও আনন্দ, কোথাও স্বস্তি। আবার কোথাও নেমে এসেছে হতাশা। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পাঁচটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। এসব বিদ্যালয় থেকে মোট ৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শূন্য পাসের হার পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর তিনটি রাজশাহীর, একটি নওগাঁর এবং একটি জয়পুরহাটের। আজ সোমবার রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় এ তথ্য জানালেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফরাত জেরিন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করা হবে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউ পাস করতে পারেনি। বাঘা উপজেলার বানিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও ছয়জন পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
মোহনপুর উপজেলার আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৩ জন। তাদেরও কেউ পাস করতে পারেনি। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার পাইলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নয়জন এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শিরট্টি ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চারজন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই দুই বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।
পাঁচ বিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। ১৩ জনের সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে হতাশা তৈরি হয়েছে। ফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় কি না, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় যুবক আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় না। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এলেও অনেক সময় পাশের বাজারে সময় কাটান।
তবে ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও আর্থসামাজিক অবস্থাকেও দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দা আনজুমান আরা। তার মতে, বিদ্যালয়টির অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অনেক অভিভাবক সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে যথেষ্ট খোঁজখবর রাখেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ মনজুর রহমান বলেছেন, এ বছরই বিদ্যালয়ের এমন ফল হয়েছে। গত বছর ২৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৩ জনই পাস করেছিল। এবার কেন এমন ফল হলো, তা পর্যালোচনা করা হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বোর্ডের কোনো বিদ্যালয়ের পাসের হার শূন্য ছিল না। এক বছরের ব্যবধানে পাঁচটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।




