গ্যাস সংকট: মাটির চুলার লাকড়ি-অটোর বাড়তি ভাড়ায় পকেটে টান

গ্যাস সংকটে রান্না হচ্ছে মাটির চুলায়, খরচ বাড়ছে লাকড়িতে। ছবি: আগামীর সময়
গ্যাস সংকটে দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়েও বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রতিদিনের রান্নায় চুলার বিকল্প বের করতে পোহাতে হচ্ছে ধকল। সিএনজিচালিত যানের চালকরা হাঁকছেন বাড়তি ভাড়া। সব মিলিয়ে বেড়েছে মাসের খরচ, বলছেন স্থানীয়রা।
গেল মাসের শেষ থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লাইনের গ্যাসের চাপ একেবারেই কম। নিত্যদিনের রান্না নিয়ে বেশ যন্ত্রণায় পড়ছিলেন গৃহবধূরা। বিকল্প হিসেবে অনেকেই মাটির চুলায় রান্না শুরু করেছেন। তবে তাতে বেড়ে গেছে মাসিক সাংসারিক খরচ।
গৃহবধূ হাওয়া বেগম বলেছেন, ‘দিনের বেলা তো গ্যাস থাকেই না। গভীর রাত কিংবা ভোরেও গ্যাসের দেখা মেলে না। রান্নার জন্য বেশ ভুগতে হচ্ছে।’
গৃহবধূ আমেনা বেগম চলতি মাসের শুরুতেই মাটির চুলার জন্য কিনেছেন লাকড়ি। এক মণ পেয়েছেন ৭০০ টাকায়। মাস চালাতে একবারে তিন মণ লাকড়ি নিয়েছেন। তার হিসাব বলছে, এভাবে লাকড়ি কিনতে থাকলে মাসে চলে যাবে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা।
মাসের শুরুতে এত লাকড়ি কেন কিনলেন- জানতে চাইলে তার কথা, গ্যাস সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে জানা নেই। অনিশ্চয়তার কারণে একবারে মাসের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।
গ্যাস সংকটের অজুহাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বেড়ে গেছে কয়েকগুণ- অভিযোগ এলাকাবাসীর। কাঁচপুর থেকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত নিয়মিত যাতায়াত গার্মেন্টসকর্মী রহিমের। তিনি বললেন, ‘আগে এই পথে ৩০ টাকা ভাড়া ছিল। এখন গ্যাস সংকটের কথা বলে সিএনজি চালকরা ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছেন।’
‘আমাদের তো বাধ্য হয়ে কাজে যেতে হয়। মাসিক আয়ের বড় অংশই এখন গাড়িভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িভাড়ায় চলে যাচ্ছে’- ক্ষুব্ধ রহিম।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের মেঘনা শাখার ম্যানেজার সুরজিত সাহা বললেন, ‘গ্যাস সংকট শুধু সোনারগাঁয়ের স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ কমেছে। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস বরাদ্দ না পাওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- জানাতে পারলেন না তিনি।








